NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শনিবার, মে ২, ২০২৬ | ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
ইউনিসেফের সতর্কতা উপেক্ষা, টিকা ক্রয় পদ্ধতি বদল করে অন্তর্বর্তী সরকার জিয়াউর রহমান সবাইকে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন : রাষ্ট্রপতি ইরানের প্রস্তাবে অসন্তুষ্ট ট্রাম্প— ‘যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হচ্ছে না’ ২০ বছর পর মুক্তি পেল ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা’ সিক্যুয়াল ইসরায়েলি কর্মকর্তার পাশে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি ফিলিস্তিন ফুটবল প্রধানের শ্রমিকের খাতায় নিজের নাম লেখাতে চান তারেক রহমান মহান মে দিবস আজ এই চেয়ারে বসলে প্রতি মুহূর্তে অনুভব করি ‘তপ্ত হিট’ আসছে : প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর দাবি, ইউনূস সরকারের ১৮ মাসের দুর্নীতি তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠন করা হোক বোয়িংয়ের ১৪ উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি সই
Logo
logo

কুয়োয় আটকা রাহুলকে জাগিয়ে রাখতে ১১৭ ঘণ্টা টানা কথা বলেন অনিল


খবর   প্রকাশিত:  ১২ জানুয়ারী, ২০২৪, ১১:১২ এএম

>
কুয়োয় আটকা রাহুলকে জাগিয়ে রাখতে ১১৭ ঘণ্টা টানা কথা বলেন অনিল

খেলার সময় বাড়ির পেছনে পরিত্যক্ত একটি কুয়োতে পড়ে যায় ১১ বছর বয়সী শিশু রাহুল শাহু। শুক্রবার (১০ জুন) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পাঁচ দিন পর মঙ্গলবার তাকে উদ্ধার করা হয়।

এই পাঁচ দিন ধরে উপুড় হয়ে শুয়ে ৮০ ফুট কুয়োয় পড়ে যাওয়া কিশোরকে ভারতের জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)-র সদস্য বি অনিল কুমার টানা বলে যাচ্ছিলেন— রাহুল ওঠো… রাহুল জেগে আছ?... রাহুল, তোমার জন্য কলা এনেছি…।

বছর এগারোর রাহুল কানে শোনে না, কথাও বলতে পারে না। ফলে তার কাছে এই বার্তা পৌঁছনো যে কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল, সেই মুহূর্তগুলোর কথা স্মরণ করতে করতেই বিষণ্ণ হয়ে পড়েন অনিল। তিনি বলেন, রাহুলকে অনবরত ডেকে গিয়েছি। গলার আওয়াজের যে কম্পন, সেটা রাহুলের কাছে পৌঁছচ্ছিল। ঈশ্বরের অশেষ কৃপা যে, আমার সেই ডাকে সাড়াও দিচ্ছিল সে।

রাহুলের অবস্থান জানতে দড়ির সাহায্যে কুয়োর ভেতরে ক্যামেরা পাঠানো হয়েছিল। অনিল বলেন, সেই ক্যামেরার মাধ্যমে দেখার চেষ্টা করছিলাম, রাহুল ঠিক কী অবস্থায় রয়েছে। প্রথমে মনে একটা শঙ্কা তৈরি হয়েছিল যে, ছেলেটি বেঁচে আছে তো? কিন্তু ক্যামেরায় ওর নড়াচড়া দেখার পরই মনে জোর পেয়েছিলাম। নিজেকে বার বার বলছিলাম, বাচ্চাটিকে বাঁচাতেই হবে।

অনিল আরও বলেন, কেন জানি না বার বার মনে হচ্ছিল, ওই বাচ্চাটিও যেন আমায় বলছিল, যদি তুমি চেষ্টা কর, আমাকে বাঁচাতে ঠিক পারবেই!

উদ্ধারকারী হিসেবে অনেক কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। চোখের সামনে অনেক মর্মান্তিক ঘটনা দেখেও চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ে না। অন্তর ফেটে যায়। কেন না, উদ্ধারকারীদের কঠোর হতে হয়। এমনটাই জানিয়েছেন অনিল। তার কথায়, সে কারণেই বাচ্চাটির পরিস্থিতি দেখে কান্না পেলেও কাঁদতে পারিনি। কেন না, ভেঙে পড়া আমাদের কাজ নয়। যে করেই হোক প্রাণ বাঁচানোই আমাদের কাজ। তাই যত বারই রাহুল আমার ডাকে সাড়া দিয়েছে, গলা বুজে এলেও কাঁদতে পারিনি।

শুক্রবার রাত সাড়ে এগারোটা থেকে মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত টানা বুকের উপর ভর দিয়ে শুয়ে কুয়োর ভেতরে থাকা ছেলেটির শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখছিলেন অনিল। তার শ্বাসপ্রশ্বাস ঠিক চলছে কি না, কুয়োয় পাঠানো যন্ত্রের সাহায্যে শুনতে পাচ্ছিলেন। তার কথায়, রাহুলকে উদ্ধারের জন্য যখন ড্রিল মেশিন দিয়ে বড় বড় পাথর কাটা হচ্ছিল, তখন তার হৃদ্‌স্পন্দন বেড়ে গিয়েছিল। শ্বাসপ্রশ্বাস জোরে জোরে চলছিল। চিৎকার করে সেই ড্রিল বন্ধ করতে বলেছিলাম। কারণ ভয়ে ছেলেটির যে কোনো মুহূর্তে হার্টফেল হতে পারত।

অনিল বলেন, রাহুলের নাম ধরে ডাকা শুরু করেছিলাম। তাকে অভয় দেওয়ার চেষ্টা করে গিয়েছি অনবরত। তার ভরসা এবং বিশ্বাস জুগিয়েছি প্রথমে। ছেলেটি কাঁদছিল। ওর কাছে কলা এবং এক প্যাকেট ফলের রস পাঠিয়েছিলাম। খেয়েওছিল সে।

তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় যে, তার ডাক শুনে কীভাবে রাহুল সাড়া দিল। কেন না ছেলেটি কানেও শোনে না, কথাও বলতে পারে না। এই ঘটনাটিকে ‘চমৎকার’ই বলে দাবি করেছেন অনিল।

তার কথায়, রাহুলকে দেড় ঘণ্টার বেশি ঘুমাতে দেইনি। আমার লক্ষ্য ছিল, যে ভাবেই হোক ওকে জাগিয়ে রাখতে হবে। একটা সময় রাহুলের গলা পর্যন্ত জল উঠে গিয়েছিল। তখন ঈশ্বরকে ডাকছিলাম, আর কিছুটা সময় দাও যাতে ছেলেটিকে বাঁচাতে পারি।

অনিল জানান, শিরদাঁড়া দিয়ে হিমশীতল স্রোত বয়ে গিয়েছিল যখন তিনি দেখতে পান রাহুল একা নেই ওই গর্তে, ওর সঙ্গে একটি সাপও রয়েছে। তার কথায়, সাপটি বিষধর না কি বিষধর নয়, তা ঠাওর করার চেষ্টা করছিলাম। যখন বুঝতে পারলাম সেটি বিষধর নয়, একটু স্বস্তি পেয়েছিলাম।