২০১১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১২ বছরে ভারতে প্রায় ৪৯ কোটি ৬০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠেছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলছে, বিশ্বের দ্রুততম দারিদ্র্য হ্রাসের ঘটনাগুলোর একটি ঘটেছে ভারতে।
খবর প্রকাশিত: ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১১ এএম

২০১১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১২ বছরে ভারতে প্রায় ৪৯ কোটি ৬০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠেছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলছে, বিশ্বের দ্রুততম দারিদ্র্য হ্রাসের ঘটনাগুলোর একটি ঘটেছে ভারতে।
বিশ্বব্যাংকের চলতি মাসে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিম্নমধ্যম আয়ের দেশের জন্য নির্ধারিত দারিদ্র্যসীমার দৈনিক আয় ৪ ডলার ২০ সেন্ট। ২০১১ সালে এই সীমার নিচে বসবাসকারী ভারতীয়দের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ১ শতাংশে।
একই সময়ে চরম দারিদ্র্যের ক্ষেত্রে অগ্রগতি আরও বেশি। দৈনিক ৩ ডলারের কম আয়ে জীবনযাপনকারী মানুষের হার একই সময়ে ২৭ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে ২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে।
বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক দারিদ্র্য অর্থনীতিবিদ আয়াগো ওয়াম্বিলের নেতৃত্বে তৈরি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোগব্যয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ (বিশেষ করে নারীদের মধ্যে) এবং খাদ্য ভর্তুকিসহ সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির বিস্তারের কারণে দারিদ্র্য কমেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ভারতে প্রায় ১৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
এ ছাড়া তরুণদের বেকারত্বও বেড়েছে। গত বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে এ হার ছিল ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ, চলতি বছরের একই সময়ে তা বেড়ে ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভারতে দারিদ্র্য হ্রাসের গতি আগামী বছরগুলোতে কিছুটা ধীর হতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশজুড়ে দারিদ্র্যের হার কমলেও দরিদ্র জনগোষ্ঠী এখন উত্তর প্রদেশ থেকে পূর্বাঞ্চলীয় পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত একটি অঞ্চলে বেশি কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। ভারতের অবশিষ্ট দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রায় ৫৭ শতাংশ এখন এ অঞ্চলে বসবাস করে।
বিশ্বব্যাংকের মতে, জাতীয় পর্যায়ে দারিদ্র্য আরও কমাতে এসব রাজ্যে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।