Shibbir Ahmed প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১০ পিএম

শিব্বীর আহমেদ, ওয়াশিংটন ডিসি - যুক্তরাষ্ট্রে এফ-১ ভিসায় অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাজে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে নতুন ফি আরোপের প্রস্তাব করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস)। প্রস্তাবিত নিয়ম কার্যকর হলে কোনো শিক্ষার্থীকে প্রথমবারের মতো পড়াশোনাসংশ্লিষ্ট ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে যুক্ত করার সুপারিশ করার আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার ডলার ফি দিতে হবে। পরবর্তীবার একই কর্মসূচিতে যুক্ত করার ক্ষেত্রে দিতে হবে ৩০ হাজার ডলার।
ডিএইচএস জানিয়েছে, এই ফি আরোপের প্রস্তাবের উদ্দেশ্য হলো কর্মসূচিতে জালিয়াতি ও অপব্যবহার কমানো, অভিবাসন ব্যবস্থার শৃঙ্খলা জোরদার করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা করা।
ডিএইচএসের এক মুখপাত্র বলেন, ‘ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি কখনোই মার্কিন কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের পেছনের দরজা, সস্তা শ্রমের জন্য ভর্তুকি কিংবা ব্যবস্থার অপব্যবহারকারীদের পুরস্কার হিসেবে তৈরি করা হয়নি।’
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এফ-১ ভিসায় অধ্যয়নরত যোগ্য বিদেশি শিক্ষার্থীরা তাঁদের শিক্ষার প্রধান বিষয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কাজে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সুযোগ পান। এ জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সুপারিশ প্রয়োজন হয়। এরপর শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থার (ইউএসসিআইএস) কাছে কাজের অনুমতির জন্য আবেদন করতে হয়।
শিক্ষার্থীরা তাঁদের পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগে এবং পড়াশোনা শেষ করার পর—দুই সময়েই এই প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারেন। যোগ্য শিক্ষার্থীরা প্রতিটি শিক্ষাস্তরে সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত এই সুযোগ পান।
বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে ডিগ্রি অর্জনকারী যোগ্য শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ২৪ মাসের প্রশিক্ষণকাল বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারেন।
ডিএইচএস জানিয়েছে, শিক্ষার্থী ও বিনিময় দর্শনার্থী কর্মসূচি (এসইভিপি) এই ব্যবস্থায় জালিয়াতি ও অপব্যবহারের বিভিন্ন ঘটনা শনাক্ত করেছে। এসব ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, নিয়োগদাতা এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
ডিএইচএসের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে সমস্যাযুক্ত কর্মস্থল এবং ‘অর্থের বিনিময়ে অবস্থান ধরে রাখার’ মতো ব্যবস্থার মাধ্যমে বর্তমান নিয়মের অপব্যবহার করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে তাঁদের বৈধ অবস্থান বজায় রাখার জন্য এমন কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত হন, যা কর্মসূচিটির নির্ধারিত উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কোনো এফ-১ শিক্ষার্থীকে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের জন্য সুপারিশ করার আগে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে। শিক্ষার্থীর তথ্য শিক্ষার্থী ও বিনিময় দর্শনার্থী তথ্য ব্যবস্থায় (সেভিস) নথিভুক্ত করার আগেই এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
এরপর শিক্ষার্থী কাজের অনুমতির জন্য নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থার কাছে আবেদন করতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্ধারিত ফি পরিশোধ না করলে শিক্ষার্থীকে কাজের অনুমতি দেওয়া হবে না বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত ফি কোনো নির্দিষ্ট নিয়োগদাতার ওপর নির্ভর করবে না। কোনো অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যখন কোনো এফ-১ শিক্ষার্থীকে যেকোনো ধরনের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের জন্য সুপারিশ করবে, তখনই ফি প্রযোজ্য হবে। আদায় করা অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কোষাগারে জমা হবে।
ডিএইচএস বলেছে, এই ফি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের জন্য সুপারিশের ক্ষেত্রে আরও কঠোরভাবে যাচাই ও তদারকিতে উৎসাহিত করবে। এর মাধ্যমে জালিয়াতি কমানো এবং কর্মসূচির নিয়ম যথাযথভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
প্রস্তাবিত নিয়মে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের সুরক্ষা এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থার সুষ্ঠুতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক নির্বাহী আদেশ ও প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন নির্দেশনার সঙ্গেও প্রস্তাবটি সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে জানিয়েছে ডিএইচএস।
প্রস্তাবিত নিয়মের বিষয়ে আগামী ৮ অক্টোবর থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত জনসাধারণের মতামত গ্রহণ করা হবে। প্রস্তাবের কাগজপত্রসংক্রান্ত অংশের জন্য আলাদাভাবে ৬০ দিনের মতামত গ্রহণের সময় থাকবে।
জনসাধারণ কীভাবে মতামত জানাতে পারবেন, সে বিষয়ে ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশনা দেওয়া হবে। মতামত গ্রহণের সময় শেষ হওয়ার পর ডিএইচএস প্রাপ্ত মতামত ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করবে। এরপর প্রয়োজন হলে প্রস্তাবিত নিয়মে পরিবর্তন আনা হতে পারে।
প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে ৭০ হাজার ও ৩০ হাজার ডলারের প্রস্তাবিত ফি এখনো কার্যকর হয়নি। চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশ ও কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী বিদেশি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সুযোগ বহাল থাকবে।