ফ্রান্সে চলমান ব্যাপক ছাত্র আন্দোলন ও অস্থিরতার পেছনে ‘লাগামহীন গণঅভিবাসন’ ও ইসলামকে দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ইসলামপন্থীরা ফ্রান্স দখলের চেষ্টা করছেন এবং দেশটিতে ব্যাপকহারে অভিবাসী আসার সুযোগ দেওয়ার কারণেই আজকের এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উন্নত পরিবেশের দাবিতে গত সেপ্টেম্বরের শেষভাগ থেকে ফ্রান্সজুড়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের অংশ হিসেবে তারা শত শত উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ অবরোধ করে রাখে, যা পরবর্তীতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে রূপ নেয়। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দেশটিতে প্রায় আড়াই লাখ বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমেছিলেন।
শিক্ষার্থীদের মূল দাবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে ট্রাম্প বলেন, ‘ফ্রান্সে যা ঘটছে তা লাগামছাড়া গণঅভিবাসন ছাড়া আর কিছুই নয়।
এটা স্কুল নিয়ে নয়, এটা হলো একদা মহান একটি দেশকে ইসলামের দখলে নেওয়ার প্রচেষ্টা।’
ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (ম্যাগা) আন্দোলনের নেতৃস্থানীয় নেতারা ফরাসি বিক্ষোভের নানা ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে অভিবাসনবিরোধী প্রচারণায় কাজে লাগাচ্ছেন। রিপাবলিকান ভাষ্যকার গ্লেন বেক বলেছেন, ফ্রান্সের এই দাঙ্গা পুরো পশ্চিমা বিশ্বের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা।
যুক্তরাষ্ট্রের আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে ট্রাম্পের অজনপ্রিয়তা এবং ইরান যুদ্ধের কারণে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কায় রয়েছে।
এ পরিস্থিতি সামাল দিতে সীমান্ত বন্ধ রাখা, উগ্র ডানপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি জোরদার করা এবং অভিবাসনবিরোধী অবস্থানকে প্রধান রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন ট্রাম্প ও তার অনুসারীরা।