Shibbir Ahmed প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর, ২০২৬, ০১:১০ এএম

শিব্বীর আহমেদ, নিউ ইয়র্ক — মার্শাল দ্বীপপুঞ্জে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতি মোকাবিলায় ওয়াশিংটনকে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানোর পাশাপাশি পারমাণবিক পরীক্ষাসংক্রান্ত গোপন নথি প্রকাশেরও সুপারিশ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে উপস্থাপিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক পরীক্ষার প্রভাব এখনো মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যে রয়ে গেছে। ১৯৪৬ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত দেশটির ভূখণ্ডে মোট ৬৭টি পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে ১৯৫৪ সালে বিকিনি প্রবালদ্বীপে চালানো ‘ক্যাসল ব্রাভো’ পরীক্ষা ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী পরীক্ষাগুলোর একটি।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব পরীক্ষার মানবিক ক্ষয়ক্ষতি ছিল গুরুতর এবং দীর্ঘস্থায়ী। পারমাণবিক বিকিরণের প্রভাবে ক্যানসারের উচ্চ হার, দূষিত এলাকা থেকে মানুষের বাস্তুচ্যুতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার মতো সমস্যার কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক উপ-হাইকমিশনার আওয়া দাবো মানবাধিকার পরিষদে বলেন, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের মানুষের জন্য এই ইতিহাস অতীত হয়ে যায়নি। এর প্রভাব এখনো মানুষের শরীর, পরিবার, ভূমি ও বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর জীবনে রয়ে গেছে।
প্রতিবেদনে পারমাণবিক পরীক্ষার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সব মার্শালিজ জনগণের মানবাধিকারগত ক্ষতির জন্য কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পারমাণবিক পরীক্ষার উত্তরাধিকারসংক্রান্ত সব তথ্য ও নথি গোপনীয়তার আওতা থেকে বের করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের প্রতিনিধিরাও দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক পরীক্ষার ক্ষতিপূরণ ও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলায় আরও পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে আসছেন। মানবাধিকার পরিষদে দেশটির প্রতিনিধি সিনেটর ডেভিড আনিটক বলেন, কার্যকর প্রতিকার না পাওয়ার কারণেই তাদের আন্তর্জাতিক সহায়তার জন্য পরিষদের দ্বারস্থ হতে হয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এর আগে বলে এসেছে যে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির আওতায় পারমাণবিক পরীক্ষার কারণে সৃষ্ট দাবিগুলোর নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য ৬০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
তবে জাতিসংঘের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারমাণবিক পরীক্ষার ক্ষতি নিয়ে এখনো একটি পূর্ণাঙ্গ ও ন্যায়সংগত নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে স্বাস্থ্য, পরিবেশ, বাস্তুচ্যুতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসেছে।
১৯৫৮ সালে পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধ হওয়ার পরও এর উত্তরাধিকার মার্শাল দ্বীপপুঞ্জে রয়ে গেছে। রুনিট দ্বীপে পারমাণবিক পরীক্ষার বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য নির্মিত বিশাল কংক্রিটের কাঠামোটি সেই অতীতের অন্যতম দৃশ্যমান নিদর্শন।