দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় গাম্বিয়ায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। রাজধানী বানজুল ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎবিভ্রাটের প্রতিবাদে বিক্ষোভও হয়েছে।
খবর প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০৯ এএম

দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় গাম্বিয়ায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। রাজধানী বানজুল ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎবিভ্রাটের প্রতিবাদে বিক্ষোভও হয়েছে।
তিনি বলেছেন, বিদ্যুৎ সংকটে গাম্বিয়া একা নয়। পশ্চিম আফ্রিকার আরও কয়েকটি দেশ একই সমস্যার মুখে পড়েছে। সোমবার রাতে রাজধানী বানজুল ও আশপাশের এলাকায় মানুষ বিদ্যুৎবিভ্রাটের প্রতিবাদে রাস্তায় নামে বলে জানায় বিবিসি।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সোমবার রাতে মানুষের ক্ষোভ চরমে ওঠে। বানজুল ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে আসেন। তারা সড়কে টায়ারে আগুন দেন এবং রাস্তা অবরোধ করেন।
গাম্বিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কয়েক মাস আগে এই বিক্ষোভের ঘটনা ঘটল। আগামী ডিসেম্বর মাসে দেশটিতে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ব্যারো তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে এরই মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সরকারের ওপর মানুষের চাপ আরো বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। মঙ্গলবার রাতে দেওয়া ভাষণে ব্যারো বিদ্যুৎ সংকটের কারণে মানুষের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করেন। একই সঙ্গে সরকারি অবকাঠামো ভাঙচুর না করার জন্য বিক্ষোভকারীদের সতর্ক করেন। তিনি বলেন, সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। এসব স্থাপনা মেরামতে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে।
ব্যারো বলেন, ‘আসুন, রাগের মুহূর্তে আমরা এমন কিছু ধ্বংস না করি, যা অর্জন করতে আমাদের এত দীর্ঘ সময় কষ্ট করতে হয়েছে।’ প্রেসিডেন্ট আরো স্বীকার করেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সরকারের পরিকল্পনায় কিছু ঘাটতি ছিল। এসব সমস্যার কারণে তিনি বিদ্যুৎ সংকটকে ‘জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়’ এবং ‘জরুরি অবস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে ব্যারো বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরের পাখা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শিশুরা অন্ধকারে পড়াশোনা করছে। মায়েরা নষ্ট হয়ে যাওয়া খাবার ফেলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। দিনে ও রাতে অতিরিক্ত গরমে মানুষের কষ্ট বাড়ছে। তিনি বলেন, ‘আমি জানি, পাখা ঘোরা বন্ধ হয়ে গেছে। শিশুরা অন্ধকারে পড়াশোনা করছে। মায়েরা নষ্ট হয়ে যাওয়া খাবার ফেলে দিচ্ছেন। দিনে ও রাতে গরম অসহনীয় হয়ে উঠেছে।’
ব্যারো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, অক্টোবরের শেষ নাগাদ বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তিনি বলেন, ব্রিকামা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ২৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট বসানো হচ্ছে। আগামী মাসের শেষ নাগাদ এটি চালু হওয়ার কথা। এ ছাড়া সোমায় ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য চুক্তি হয়েছে। তবে কেন্দ্রটি কবে চালু হবে, সে বিষয়ে সরকার নির্দিষ্ট সময় জানায়নি। ব্যারোর ভাষ্য, গাম্বিয়ার মতো ছোট বিদ্যুৎব্যবস্থার জন্য এই পরিমাণ অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ। এটি চালু হলে মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা করছেন। মঙ্গলবার সকালে প্রেসিডেন্ট জাতীয় বিদ্যুৎ সংস্থা নাওয়েকের বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি জানান, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই গাম্বিয়ায় নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী যন্ত্র পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
গাম্বিয়া নিজেদের উৎপাদিত বিদ্যুতের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ থেকেও বিদ্যুৎ আমদানি করে। গিনি ও সেনেগাল থেকে বিদ্যুৎ নেয় দেশটি। নাওয়েকের প্রধান গ্যালো সাইদিও বলেছেন, আঞ্চলিক বিদ্যুৎ গ্রিড থেকে কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় বর্তমান সংকট আরো বেড়েছে। তিনি বলেন, এ বছর বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় আঞ্চলিক বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পাওয়া বিদ্যুতের পরিমাণও কমে গেছে। গ্যালো সাইদিও বলেন, ‘গাম্বিয়ার মানুষ কতটা হতাশ ও সমস্যার মধ্যে আছেন, তা আমরা জানি। আমরা শুধু গাম্বিয়ার মানুষের কাছে একটু সময় ও ধৈর্য চাচ্ছি।’
গাম্বিয়ায় জুন মাস থেকে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। চলতি গরমের মৌসুমে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদাও দ্রুত বেড়েছে। মানুষ গরম থেকে বাঁচতে বেশি সময় পাখা ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করছেন। ফলে বিদ্যুতের ওপর চাপ আরো বেড়েছে। আগস্টে নাওয়েক জানিয়েছিল, অস্বাভাবিক বেশি তাপমাত্রার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। একই সময়ে কারিগরি সমস্যার কারণে আমদানি করা বিদ্যুৎ সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত একটি বড় উৎপাদন ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরো কমে যায়।