NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ | ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলেই টেকসই শান্তির সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব : আইরিন খান আমি রাজপরিবারের হলে মেগান আর প্রিন্স হ্যারিকে ফিরিয়ে নিতাম না : ট্রাম্প শান্তিচুক্তির অগ্রগতি হলে পুতিনের সঙ্গে আবার বৈঠকে বসতে চান ট্রাম্প বিশেষ সম্মানে মেসির ক্যারিয়ার উদযাপন করবে আর্জেন্টিনা সব ধরনের প্রচার থেকে আড়ালে যাচ্ছেন আরিয়ানা গ্রান্ডে নেপালের বন্যা জলবায়ু নিয়ে বিশ্বকে আরও সক্রিয় হওয়ার বার্তা দিচ্ছে: জিসিএফ প্রধান বাংলাদেশে প্রায় ৬ লাখ চাকরি ঝুঁকিতে: বিশ্বব্যাংক আমাদের সামনে এখনো কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে : প্রধানমন্ত্রী মক্কা প্যাক্টে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি মানবে সরকার ইরানে ফের যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিনদের সতর্কবার্তা
Logo
logo

আমি রাজপরিবারের হলে মেগান আর প্রিন্স হ্যারিকে ফিরিয়ে নিতাম না : ট্রাম্প


খবর   প্রকাশিত:  ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম

আমি রাজপরিবারের হলে মেগান আর প্রিন্স হ্যারিকে ফিরিয়ে নিতাম না : ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান মার্কেলের যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যুক্তরাজ্যে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি খুশি। একই সঙ্গে তিনি রাজপরিবারের সঙ্গে এই দম্পতির আচরণের সমালোচনা করেছেন।

 

 

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় হ্যারি-মেগানের যুক্তরাজ্যে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এতে খুশি। আমি তাদের ভক্ত ছিলাম না। আমার মনে হয়েছে, তারা রাজপরিবারের সঙ্গে অত্যন্ত অসম্মানজনক আচরণ করেছেন।’

কিছুটা রসিকতার সুরে ট্রাম্প বলেন, তিনি যদি রাজা হতেন, তাহলে হ্যারি ও মেগানকে আবার যুক্তরাজ্যে ফিরতে দিতেন না।

তিনি বলেন, ‘হয়তো আমি একটু আলাদা। আমি তাদের ফিরিয়ে নিতাম না।’

 

ট্রাম্প আরো বলেন, ‘আমি হ্যারি ও মেগানের ভক্ত নই এবং রাজপরিবারের প্রতি তাদের আচরণ আমার কাছে অত্যন্ত অসম্মানজনক মনে হয়েছে।’  

মেগানের আচরণের সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, তিনি মনে করেন, প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ এবং রাজা তৃতীয় চার্লসের প্রতি মেগান ভীষণ অসম্মানজনক আচরণ করেছেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তার আচরণ পছন্দ করিনি। আমার মনে হয়েছে, তিনি রানি ও রাজা চার্লসের প্রতি ভীষণ অসম্মানজনক ছিলেন।’

 

প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল আগস্টে যুক্তরাজ্যে ফিরে যান। যুক্তরাজ্যে ফিরে তারা সন্তানদের ব্রিটিশ স্কুলে ভর্তি করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তারা লন্ডনের বাইরে রাজপরিবারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই, এমন একটি বাড়িতে বসবাস করবেন।

হ্যারি ও মেগান ২০২০ সালে রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। এর পর থেকে রাজপরিবারের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছে।

 

যুক্তরাজ্যে ফিরে গেলেও প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক দায়িত্বে ফিরছেন না। বর্তমানে তাদের এমন কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে তাদের যুক্তরাজ্যে ফিরে আসায় ভবিষ্যতে তারা আবারও রাজপরিবারের কোনো দায়িত্বে ফিরতে পারেন, এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য হ্যারি ও মেগান যুক্তরাজ্যে ফেরার পর এ বিষয়ে তার প্রথম মন্তব্য। রাজপরিবারের কর্মরত সদস্যের দায়িত্ব ছাড়ার প্রায় ছয় বছর পর তারা যুক্তরাজ্যে ফিরেছেন। দায়িত্ব ছাড়ার পর তারা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেসিটোতে বসবাস করছিলেন।

রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে হ্যারি-মেগানের আচরণ নিয়ে এর আগেও ট্রাম্প সমালোচনা করেছেন। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে হ্যারির অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি অবস্থান নিয়ে বিতর্কের মধ্যেও তাকে দেশ থেকে বহিষ্কারের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক রক্ষণশীল গবেষণা প্রতিষ্ঠান হেরিটেজ ফাউন্ডেশন অভিযোগ করেছিল, অভিবাসনসংক্রান্ত নথিতে হ্যারি অবৈধ মাদক ব্যবহারের বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে থাকতে পারেন অথবা তিনি বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকতে পারেন। প্রতিষ্ঠানটি হ্যারির অভিবাসন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের দাবিতে মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে। তবে গত বছরের সেপ্টেম্বরে এক বিচারক রায় দেন, অন্য যেকোনো ব্যক্তির মতো হ্যারিও তার ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার রাখেন।

হ্যারিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, এ নিয়ে তার কোনো আগ্রহ নেই। তিনি বলেছিলেন, ৪০ বছর বয়সী হ্যারির এমনিতেই স্ত্রী মেগানকে নিয়ে যথেষ্ট সমস্যা রয়েছে। মেগান সম্পর্কে ট্রাম্প তখনও নেতিবাচক মন্তব্য করেন।

যুক্তরাজ্যে ফিরে হ্যারি ও মেগান রাজপরিবারের কর্মরত সদস্য না হয়ে আগের মতোই বেসরকারি ব্যক্তি হিসেবে থাকবেন। তাদের নিজেদের ইচ্ছার সঙ্গেও এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাদের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন আনার কথাও ঘোষণা করা হয়নি।

হ্যারি এর আগে বলেছিলেন, পুলিশের নিরাপত্তা ছাড়া যুক্তরাজ্যে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ফিরে আসাকে তিনি নিরাপদ মনে করবেন না। এই পুলিশি নিরাপত্তা পাওয়ার জন্য তিনি কয়েক বছর ধরে আইনি লড়াইও করেছেন।

এদিকে হ্যারি ও মেগান ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেসিটো এবং পর্তুগালে থাকা তাদের বাড়িগুলোও রেখে দিয়েছেন। মেগান তার লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড ‘অ্যাজ এভার’-এর কার্যক্রমও চালিয়ে যাচ্ছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের ভালো বন্ধু মনে করেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে ট্রাম্পই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি দুইবার যুক্তরাজ্যে রাষ্ট্রীয় সফর করেছেন। ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রতি তার আগ্রহের পেছনে প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্রতি তার শ্রদ্ধার ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হয়।

ট্রাম্প রানি এলিজাবেথের সঙ্গে দুইবার দেখা করেছিলেন। তবে রাজপরিবারের সদস্য হওয়ার আগে মেগান মার্কেল ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তিনি ট্রাম্পকে ‘নারীবিদ্বেষী’ এবং ‘বিভেদ সৃষ্টিকারী’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে হ্যারি ও মেগানের একটি ভিডিও বার্তা নিয়েও আলোচনা হয়। ওই ভিডিওতে তারা মার্কিন ভোটারদের ‘বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, ভুল তথ্য ও অনলাইনের নেতিবাচকতা প্রত্যাখ্যান’ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

যদিও তারা সরাসরি কোনো প্রার্থীকে সমর্থনের কথা বলেননি, ওই সময় তাদের বক্তব্যকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়েছিল। মেগান ওই নির্বাচনকে তার জীবনের ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।