NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, মঙ্গলবার, আগস্ট ১৮, ২০২৬ | ৩ ভাদ্র ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
সড়ক-বাঁধ সুরক্ষায় বিন্না ঘাস ব্যবহারের সিদ্ধান্ত পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত ইরান চান ট্রাম্প, জানালেন কুশনার অবশেষে বিয়ের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন পূজা চেরী ভারতীয় ধনকুবেরের দল ইংল্যান্ডের দ্য হানড্রেডে চ্যাম্পিয়ন আশা ভোঁসলের স্মরণে এ আর রহমানের বিশেষ উদ্যোগ, সঙ্গে শাহরুখ U.S. Business Delegation in Dhaka Signals Growing Investment Interest in Bangladesh বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা খুঁজছে মার্কিন শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নতুন গতি, অর্থনীতি ও কৌশলগত অংশীদারত্বে ওয়াশিংটনের আগ্রহ যারা দেশে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদের নজরদারিতে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ শেষের পথে যুদ্ধবিরতি, ফের কি সংঘাতে জড়াবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান?
Logo
logo

প্রতি রাতে গাজায় ৩০-৪০ জন মানুষ হত্যার পরামর্শ ইসরায়েলি মন্ত্রীর


খবর   প্রকাশিত:  ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৮ এএম

প্রতি রাতে গাজায় ৩০-৪০ জন মানুষ হত্যার পরামর্শ ইসরায়েলি মন্ত্রীর

ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির গাজায় প্রতি রাতে ৩০ থেকে ৪০ মানুষকে হত্যার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট সরকারের প্রভাবশালী অংশীদার বেন গভির রবিবার প্রচারিত এক পডকাস্ট শো’তে এই পরামর্শ দিয়েছেন।

 

 

গাজায় জিম্মি অবস্থা থেকে মুক্ত হয়ে আসা রোম ব্রাসলাভস্কির পডকাস্টে অংশ নেন ইসরায়েলের কট্টরপন্থী রাজনৈতিক দল ‘ওতজমা ইয়েহুদিত'-এর প্রধান বেন-গভির। 

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েলের ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করার সময় বেন-গভির গাজায় ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা কমিয়ে আনার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ’এটি কোনো গোপন বিষয় নয়। আমি প্রধানমন্ত্রীর সাথে একমত নই।

আমি মনে করি, গাজায় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হত্যাকাণ্ড চালানো উচিত এবং প্রতি রাতে ৩০ থেকে ৪০ জনকে হত্যা করা উচিত। শুধু তারাই নয়, যারা তাৎক্ষণিক হুমকি সৃষ্টি করে; সেখানে এমন কিছু মানুষ আছে যারা বেঁচে থাকার যোগ্য নয়। তাদের বেঁচে থাকা উচিত নয়। তারা মানুষই নয়।

 

বেন-গভির অতি-ডানপন্থী এবং চরম ইহুদি জাতীয়তাবাদী মতাদর্শের অনুসারী। তিনি আরববিরোধী এবং ফিলিস্তিনিবিরোধী কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত। একসময় ইসরায়েলি সমাজে তার চিন্তাভাবনাকে অত্যন্ত উগ্র ও প্রান্তিক মনে করা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর, ইসরায়েলি জনগণের একটি বড় অংশের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়।

দেশের সামরিক বাহিনীর ওপর বেন-গভিরের কোনো ক্ষমতা নেই এবং তিনি গাজায় হামলার নির্দেশ দিতে পারেন না।

কিন্তু কয়েক দশক ধরে ইসরায়েলের অতি-ডানপন্থী প্রান্তিক দলগুলোর মধ্যে কাজ করার পর, তিনি এখন দেশের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হয়ে উঠেছেন। ইসরায়েলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর ওপর তার ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ রয়েছে; তিনি দেশের কারাগারগুলো পরিচালনা করেন; যেখানে গাজা ও পশ্চিম তীরের হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় পুলিশ বাহিনীও তার অধীনে। তিনি এর আগে ফিলিস্তিনি বন্দিদের খাবারের বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ার বিষয়ে বড়াই করেছিলেন। ২০২৫ সালে ইসরায়েলের সর্বোচ্চ আদালত রায় দেয় যে, বেন-গ্যভিরের অধীনে থাকা কারা বিভাগ ফিলিস্তিনিদের বেঁচে থাকার জন্য ন্যূনতম প্রয়োজনীয় খাদ্য থেকে বঞ্চিত করছে।

 

বেন গ্যভির গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের গণ-অভিবাসন বা চলে যাওয়ার পক্ষে ওকালতি করেন; যাকে আন্তর্জাতিক আইনজীবীরা জাতিগত নির্মূলের শামিল হতে পারে বলে মনে করেন। কট্টরপন্থি এই নেতা গাজায় ইসরায়েলিদের নতুন করে বসতি স্থাপনের প্রস্তাব দেন। বিশ বছর আগে ইসরায়েল গাজা উপত্যকা থেকে তাদের বাহিনী প্রত্যাহার করে নিয়েছিল এবং ২১টি ইহুদি বসতির একটি ব্লক ভেঙে দিয়েছিল, যা গুশ কাতিফ নামে পরিচিত ছিল। 

পডকাস্টে বেন-গভির বলেন, ‘আমি পুরো গাজাকে আমাদের হিসেবে দেখি। কেবল গুশ কাতিফেই নয়, বরং পুরো গাজাজুড়ে বসতি স্থাপন করা দরকার। যতটা সম্ভব অভিবাসনকে উৎসাহিত করতে হবে। তাদের নিজস্ব দেশে পাঠিয়ে দিতে হবে। আর সন্ত্রাসীদের জন্য কোনো অভিবাসন বা অন্য কিছু নয়, শুধু একে একে তাদের হত্যা করতে হবে।’