NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৬ | ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
ডালাস-ফোর্ট ওর্থ বিমানবন্দরে অজুর বিশেষ ব্যবস্থা: চলতি বছরের শেষেই চালু হচ্ছে নতুন প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণিত অলিম্পিয়াডে পদকজয়ীদের সাক্ষাৎ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন ব্যবসায়ীদের আলোচনা, বাণিজ্য-বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহ উত্তরাখণ্ডে নির্মাণাধীন সুড়ঙ্গে ধস, নিহত ৬ কোন ছবির জন্য পারিশ্রমিক বাড়ালেন শ্রদ্ধা কাপুর? বাংলাদেশে আল-কায়েদার সেল গঠনের চেষ্টা, সতর্ক করল জাতিসংঘ দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে মির্জা ফখরুল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ইসিতে জমা পড়েছে তিন মনোনয়নিপত্র বিএনপির মহাসচিব পদ থেকে পদত্যাগ মির্জা ফখরুলের, রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা
Logo
logo

বিতর্কিত কুরিল দ্বীপে পুতিনের সফর, জাপানের তীব্র প্রতিবাদ


খবর   প্রকাশিত:  ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:০৮ এএম

বিতর্কিত কুরিল দ্বীপে পুতিনের সফর, জাপানের তীব্র প্রতিবাদ

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জের ইতুরূপ দ্বীপ পরিদর্শন করেছেন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে।

 

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, পুতিন ইতুরূপ দ্বীপ সফর করেছেন। জাপানে দ্বীপটি এতোরোফু নামে পরিচিত। এটি কুরিল দ্বীপপুঞ্জের চারটি দ্বীপের একটি। এসব দ্বীপের মালিকানা রাশিয়া ও জাপান, দুই দেশই দাবি করে।

 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাশিয়া ও জাপান কখনো আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করেনি। এর প্রধান কারণ কুরিল দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিরোধ। জাপান এই দ্বীপগুলোকে ‘নর্দার্ন টেরিটোরিজ’ বা ‘উত্তরাঞ্চলীয় ভূখণ্ড’ বলে দাবি করে।

তাস জানিয়েছে, কুরিল দ্বীপপুঞ্জে এটিই পুতিনের প্রথম সরাসরি সফর।

রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলে নৌবাহিনীর মহড়া পরিদর্শনের পর তিনি ইতুরূপের ইয়াসনি মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র ঘুরে দেখেন। 

 

রাশিয়ার ভেস্তি টিভি চ্যানেলের প্রকাশ করা ছবিতে দেখা গেছে, পুতিন কালো স্যুট পরে একটি কক্ষে দাঁড়িয়ে টেবিলের ওপর রাখা দুটি বড় টুনা ও হ্যালিবাট মাছ দেখছেন। এ সময় দুজন কর্মকর্তা তাকে মাছ ধরা এবং মাছের পরিযায়ী আচরণ সম্পর্কে জানান। পুতিন সেখানে স্থানীয় মাছের ডিমও চেখে দেখেন।

এদিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বৃহস্পতিবার বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রথম সফরের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

তিনি এই সফরকে ‘একেবারেই অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন।

 

তাকাইচি সাংবাদিকদের বলেন, পুতিনের এই সফর ‘রাশিয়ার প্রতি জাপানিদের মনোভাবকে খারাপ করেছে’।

তিনি বলেন, কুরিল দ্বীপপুঞ্জ ‘ঐতিহাসিকভাবে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জাপানের স্বতন্ত্র ভূখণ্ড’। কুরিল দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে কয়েক দশক ধরে বিরোধ চলে আসছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দুই দেশের মধ্যে শান্তি চুক্তি না হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণও এই ভূখণ্ডগত বিরোধ।

কুরিল দ্বীপপুঞ্জ জাপানের উত্তরাঞ্চলের হোক্কাইডো ও রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপের মাঝখানে অবস্থিত। এর দক্ষিণের চারটি দ্বীপের মালিকানা জাপান দাবি করে। জাপান এসব দ্বীপকে ‘নর্দার্ন টেরিটোরিজ’ বা ‘উত্তরাঞ্চলীয় ভূখণ্ড’ বলে।

বর্তমানে দ্বীপগুলো রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন এসব দ্বীপ দখল করে নেয় এবং প্রায় ১৭ হাজার জাপানি বাসিন্দাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সফরের সময় পুতিন স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্বীপের স্থানীয় মাছের ডিমও চেখে দেখেন। এর আগে বৃহস্পতিবার জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি বলেন, এসব দ্বীপ ‘ঐতিহাসিকভাবে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জাপানের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড’।

পুতিনের সফরের বিরুদ্ধে জাপান সরকার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বলেও তিনি জানান। বছরের পর বছর ধরে কুরিল দ্বীপপুঞ্জের ভূখণ্ডগত বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা খুব বেশি সফল হয়নি। দুই দেশের সম্পর্কও এখনো শীতল।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর জাপান মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর আগে বিতর্কিত দ্বীপগুলোতে রুশ কর্মকর্তাদের সফরের বিরুদ্ধেও জাপান প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন এবং তার পূর্বসূরি দিমিত্রি মেদভেদেভ।

কুরিল দ্বীপপুঞ্জ রাশিয়ার জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গত এক দশকে দেশটি সেখানে সামরিক উপস্থিতি আরো শক্তিশালী করেছে। ইতুরূপ দ্বীপে রাশিয়ার একটি প্রধান সামরিক বিমানঘাঁটিও রয়েছে।

গত মাসে চীন ও রাশিয়ার নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ যৌথ টহল দেওয়ার সময় কুরিল দ্বীপপুঞ্জের একটি প্রণালি দিয়ে অতিক্রম করে। রাশিয়া কুরিল দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে নিয়মিত সামরিক মহড়াও চালায়। এসব মহড়ার কারণে জাপান একাধিকবার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।