NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২৬ | ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
বাংলাদেশে আল-কায়েদার সেল গঠনের চেষ্টা, সতর্ক করল জাতিসংঘ দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে মির্জা ফখরুল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ইসিতে জমা পড়েছে তিন মনোনয়নিপত্র বিএনপির মহাসচিব পদ থেকে পদত্যাগ মির্জা ফখরুলের, রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা দিবস পালন: বিশ্বমঞ্চে সার্বভৌমত্বের জোরালো স্বীকৃতি দাবি বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়াতে গুরুত্বারোপ হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির পদ ছাড়ছেন ক্যারোলিন লেভিট তুরস্কে ট্রাম্পের অবস্থান জানত ইরান, ছিল বিমানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিকল্পনা প্রথম সেশনেই ৪ উইকেট শিকার বাংলাদেশের, চাপে অস্ট্রেলিয়া
Logo
logo

বাংলাদেশে আল-কায়েদার সেল গঠনের চেষ্টা, সতর্ক করল জাতিসংঘ


Shibbir Ahmed   প্রকাশিত:  ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০৮ পিএম

বাংলাদেশে আল-কায়েদার সেল গঠনের চেষ্টা, সতর্ক করল জাতিসংঘ

শিব্বীর আহমেদ, নিউইয়র্ক: বাংলাদেশকে কাজে লাগিয়ে আল-কায়েদার দক্ষিণ এশীয় শাখা আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (AQIS) নতুন সেল বা সাংগঠনিক ঘাঁটি গড়ে তোলার চেষ্টা করছে—এমন উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ISIL (দায়েশ), আল-কায়েদা ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনবিষয়ক নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ দলের ৩৮তম প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। S/2026/651 নম্বরের প্রতিবেদনটি ১০ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত হয়। এতে ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৯ জুন পর্যন্ত সংগঠনগুলোর কার্যক্রম ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের ১০১ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, AQIS বড় কোনো ইউনিটের পরিবর্তে ছোট ও ছড়িয়ে থাকা বিকেন্দ্রীভূত সেল-এর মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে সংগঠনটি লজিস্টিক ও আর্থিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে নিজেদের আঞ্চলিক সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকদের মধ্যে বাংলাদেশকে কাজে লাগিয়ে AQIS-এর সেল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

দিল্লির লালকেল্লা হামলার সঙ্গে AQIS-এর যোগ

প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের নভেম্বরে দিল্লির লালকেল্লার কাছে হামলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের মূল্যায়নে হামলাটির সঙ্গে AQIS-এর সংশ্লিষ্টতার কথা উঠে এসেছে। ঘটনাটি দক্ষিণ এশিয়ায় সংগঠনটির সম্ভাব্য আঞ্চলিক সক্ষমতা ও নেটওয়ার্ক নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক দলের মতে, AQIS বর্তমানে পাকিস্তানে সক্রিয় ইত্তিহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান (IMP)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। সংগঠনটির কয়েকজন শীর্ষ নেতা আফগানিস্তানের কাবুলে অবস্থান করছেন এবং তাদের সঙ্গে আফগান তালেবান কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় বাড়ছে সন্ত্রাসী ঝুঁকি

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে সংঘাত, আন্তঃসীমান্ত হামলা এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনের তৎপরতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বার্ষিক রাহবারি শুরা বা নেতৃত্ব পরিষদের বৈঠকের পর নিষিদ্ধঘোষিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (TTP) তাদের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন করেছে।

নতুন কাঠামোয় ‘বেলুচিস্তান ও মধ্যাঞ্চল’ এবং ‘কাশ্মীর ও গিলগিট’ নামে দুটি বিভাগ যুক্ত করার পাশাপাশি ‘TTP Air Force’ নামে একটি নতুন ইউনিট চালুর ঘোষণার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তালেবান ও TTP-কে আল-কায়েদার সমর্থন

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ এপ্রিল আল-কায়েদার প্রচারমাধ্যম আস-সাহাব মিডিয়া ফাউন্ডেশন আফগান তালেবান এবং TTP-এর প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানায়। জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকদের মতে, আল-কায়েদা দীর্ঘদিন ধরে TTP-এর সঙ্গে আদর্শিক ও সাংগঠনিক যোগাযোগ বজায় রেখেছে। ফলে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানকেন্দ্রিক বিভিন্ন জঙ্গি নেটওয়ার্কের পারস্পরিক সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

রাসায়নিক ও জৈবিক অস্ত্র নিয়েও উদ্বেগ

প্রতিবেদনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে আল-কায়েদা ও আইএসআইএলের রাসায়নিক ও জৈবিক অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের মতে, প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে এসব সংগঠন এখনো বড় ধরনের সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। তবে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিষাক্ত পদার্থ ও সম্ভাব্য রাসায়নিক-জৈবিক অস্ত্র তৈরির তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে আইএসআইএলের একটি ইংরেজি ভাষার অনলাইন ম্যাগাজিনে বিষাক্ত উপাদান নিয়ে প্রচারণা চালানো হয়। রিসিন তৈরির প্রচেষ্টার সঙ্গেও আইএসআইএল-সংশ্লিষ্ট একটি নেটওয়ার্কের যোগসূত্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৫ সালের শেষ দিকে ভারতে তিনজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসক ছিলেন। জাতিসংঘের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশে অবস্থানরত একটি আইএসআইএল-সংশ্লিষ্ট সেলের নির্দেশে তাদের রিসিন তৈরির কাজে যুক্ত করা হয়েছিল।

বাংলাদেশের জন্য কী বার্তা?

জাতিসংঘের সর্বশেষ মূল্যায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—আল-কায়েদার আঞ্চলিক শাখাগুলো বড় ঘাঁটির পরিবর্তে ছোট, বিকেন্দ্রীভূত সেল এবং আর্থিক ও লজিস্টিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নিজেদের কার্যক্রম বিস্তারের চেষ্টা করছে। বাংলাদেশকে কাজে লাগিয়ে AQIS-এর সম্ভাব্য সেল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ তাই দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্তপারের যোগাযোগ, উগ্রবাদী প্রচারণা, অর্থায়ন এবং ছোট সেলভিত্তিক নেটওয়ার্কের বিস্তার ঠেকাতে নজরদারি জোরদারের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।

তবে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বাংলাদেশে AQIS-এর কোনো নির্দিষ্ট সেলের অবস্থান, সদস্যসংখ্যা বা কার্যক্রমের বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। ফলে বাংলাদেশে সংগঠনটির সেল ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এমন কোনো নিশ্চিত দাবি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে করা যাচ্ছে না। জাতিসংঘের বক্তব্য মূলত সম্ভাব্য তৎপরতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে একটি সতর্কতামূলক মূল্যায়ন।

সার্বিকভাবে জাতিসংঘের ৩৮তম প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের পরিবর্তিত কৌশল, বিকেন্দ্রীভূত সাংগঠনিক কাঠামো এবং আন্তঃদেশীয় যোগাযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশকে কাজে লাগিয়ে AQIS-এর সেল গঠনের সম্ভাবনা বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি সতর্কবার্তা হিসেবে উঠে এসেছে।