NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, রবিবার, আগস্ট ৯, ২০২৬ | ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
যুদ্ধবিরতির ৩০০ দিনে গাজায় নিহত তিনশ শিশু: ইউনিসেফ পাটওয়ারীর ওপর ‘আসল মার শুরুই হয়নি’: নিউইয়র্কে বিএনপি এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে জুলাই ঘিরে বিতর্ক, জুলাই-যোদ্ধা বহিষ্কার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে খুদে শিল্পী অনুশ্রী রায়ের স্বপ্নপূরণ পাকিস্তান-তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি সৌদি আরবকে কতটা নিরাপত্তা দেবে? বিরোধ কাটিয়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করছে মেক্সিকো ও পেরু এবার ওটিটিতে মুক্তি পেল ‘মালিক’ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য : প্রধানমন্ত্রী ভারত সরকারের কাছে ক্ষমা চাইলেন জাকারবার্গ আকাশে ট্রাম্পের হেলিকপ্টার ও যাত্রীবাহী বিমান মুখোমুখি, তদন্তে মার্কিন সংস্থা
Logo
logo

উত্তর আমেরিকা'র আয়োজনে হয়ে গেল এক অভিনব ও চমকপ্রদ আড্ডা


খবর   প্রকাশিত:  ০৮ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৮ এএম

উত্তর আমেরিকা'র আয়োজনে হয়ে গেল এক অভিনব ও চমকপ্রদ আড্ডা

গত ৩০ জুলাই,  'প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা'র আয়োজনে হয়ে গেল এক অভিনব ও চমকপ্রদ আড্ডা। আড্ডার নাম— 'কাঁঠালিয়া আড্ডা'। শিশুকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত অনেক কাঁঠাল খেয়েছি, কিন্তু কাঁঠাল নিয়েও আড্ডা হয়— তা এই প্রথম শুনলাম!  সম্পাদক ইব্রাহিম চৌধুরী আগেই বলেছিলেন, সবাই যেন কাঁঠাল রঙের শাড়ি এবং পাঞ্জাবি পরে আসে। সে মোতাবেক সবাই হলুদ শাড়ি আর পাঞ্জাবি, কেউবা আবার লাল-সবুজ মিলিয়ে পরে এসেছেন। 

 

আমিও কাজ থেকে তিন ঘণ্টা আগেই ছুটি নিয়ে অনুষ্ঠানে পৌঁছে গেলাম হলুদ শাড়ি পরে। গিয়ে দেখি, ইলহাম একাডেমি রঙিন হয়ে উঠেছে কাঁঠালপ্রেমীদের কাঁঠালিয়া রঙে। চারপাশের এত হলুদ রঙের বাহার দেখে মনে হলো— হলুদে হলুদে এ যেন আমার ফেলে আসা সেই শর্ষে ক্ষেতের স্মৃতি!  এ যেন শীতের শেষ আর বসন্তের আগে গ্রামবাংলা সেজেছে অপরূপ সাজে। যদিও আমাদের এই কৃত্রিম হলুদ সরিষা ক্ষেতে মৌমাছির আনাগোনা ছিল না, তবু মনে পড়ে গেল কবি নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্যের কবিতা, 

'মৌমাছি মৌমাছি

কোথা যাও নাচি নাচি

দাঁড়াও না একবার ভাই,

ওই ফুল ফোটে বনে, 

যাই মধু আহরণে,

দাঁড়াবার সময় তো নাই...।'

 

সত্যিই তো, প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে আমাদের কারোই তো একটু দাঁড়াবার সময় নেই! তবু সব কাজ সামলে এই হলুদ উৎসবে মধু আহরণ করতেই যেন আমরা সবাই ছুটে এসেছি।

কাঁঠাল নিয়ে চমৎকার সব আলোচনা হলো, গল্প হলো, হাসাহাসি হলো। আমরা সবাই প্রাণভরে উপভোগ করলাম মজার সব কাঁঠালি গল্প। 

 

পশ্চিমবঙ্গের কবি সুবোধ সরকার এসেছিলেন আমাদের এই কাঁঠালিয়া আড্ডায়। উনি আবেগে আপ্লুত হয়ে বললেন, "অনেক আড্ডায় গিয়েছি, অনেক আড্ডার নাম শুনেছি, কিন্তু এই প্রথম শুনলাম কাঁঠালিয়া আড্ডার কথা!"

 

মজার সব আলোচনার শেষে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। সবাই থালা হাতে দাঁড়িয়ে গেলেন কাঁঠাল খাওয়ার জন্য। বোন রাশিদা সবার প্লেটে তুলে দিলেন কাঁঠাল আর বিন্নি চালের ভাত; সাথে কাঁঠালের এঁচোড়, কাঁঠালের পায়েস আর দই!

 

অনুষ্ঠান শেষে বেরিয়ে আসছি আমি আর বন্ধু স্নোফ্লেক্স। রাস্তার কোণায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছি আমাদের গাড়ির জন্য। হঠাৎ এক মহিলা হন্তদন্ত হয়ে রাস্তা পার হয়ে আমাদের কাছে আসলেন।

উত্তেজিত হয়ে বললেন, "অনুষ্ঠান কি শেষ হয়ে গেছে?" আমরা বললাম, "হ্যাঁ!" মহিলা খুবই হতাশ হয়ে বললেন, "পত্রিকায় দেখে আসছিলাম কাঁঠাল খাওয়ার জন্য!" 

আমাদেরও খারাপ লাগলো। বললাম, "পরের বার যখন হবে, তখন আবার আসবেন।"

 

ধন্যবাদ ইব্রাহিম চৌধুরী ভাইজানকে, এমন চমৎকার একটা আয়োজন করার জন্য!