পাকিস্তান বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নতুন বিধি-নিষেধ চালু করেছে। এখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের জন্য ইসলামাবাদ, লাহোর ও করাচির বাইরে যেতে হলে আগে বাধ্যতামূলকভাবে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নিতে হবে।
খবর প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৮ এএম

পাকিস্তান বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নতুন বিধি-নিষেধ চালু করেছে। এখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের জন্য ইসলামাবাদ, লাহোর ও করাচির বাইরে যেতে হলে আগে বাধ্যতামূলকভাবে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নিতে হবে।
পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এই নির্দেশিকা জারি করেছে। এতে দেশটিতে কাজ করা বিদেশি গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের নিবন্ধন, স্বীকৃতি এবং যাতায়াতের জন্য বিস্তারিত নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে। ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক্সটারনাল পাবলিসিটি (ইপি) উইংয়ে আগে থেকেই নিবন্ধিত বা স্বীকৃত সব বিদেশি সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী এবং অন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে এখন অন্য কোনো শহরে যাওয়ার আগে বাধ্যতামূলকভাবে ইপি উইং থেকে এনওসি নিতে হবে। তারা যদি সরকারি কাজের জন্য সংবাদ প্রতিবেদন, প্রামাণ্যচিত্র, চলচ্চিত্র, ভিডিও বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জন্য কোনো কনটেন্ট তৈরি করতে চান, তাহলে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
তবে ইসলামাবাদ, লাহোর ও করাচির ক্ষেত্রে এনওসি লাগবে না। অবকাশ যাপনের জন্য অ্যাবোটাবাদ ও মুরিতে যেতে চাইলে সাংবাদিকরা অনুরোধের ভিত্তিতে ইপি উইং থেকে এনওসি নিতে পারবেন। এ ধরনের অনুমোদন তিন কর্মদিবসের মধ্যে দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন এই নিয়ম আন্তর্জাতিক মুদ্রিত, ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
এ ছাড়া বিদেশি গণমাধ্যমকে সেবা দেওয়া প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান, কম্পানি, ফ্রিল্যান্সার, ফিক্সার এবং সাংবাদিক নন—এমন সেবাদানকারীদেরও নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিবন্ধিত সাংবাদিকদের কিউআর-সংযুক্ত পিভিসি স্বীকৃতি কার্ড দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে তারা সরকারি অনুষ্ঠান ও সরকারি স্থাপনায় প্রবেশের সুবিধা পাবেন। ডনের তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধন কার্ড সাত কর্মদিবসের মধ্যে দেওয়া হবে। আর স্বীকৃতি কার্ড পেতে চার থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে স্থানীয় নির্বাচনকে ঘিরে বিক্ষোভ, অস্থিরতা এবং বলপ্রয়োগের অভিযোগের খবর প্রকাশের পর পাকিস্তানে গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার নিয়ে বাড়তি নজরদারির মধ্যেই এই নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস এশিয়াসহ মানবাধিকার ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থা সাংবাদিকদের ওপর কথিত বিধিনিষেধ, যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রাখা, গণমাধ্যমকর্মীদের জোরপূর্বক গুম এবং বিক্ষোভ ঘিরে বিদেশি গণমাধ্যমের সংবাদ সংগ্রহে সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল রাওয়ালাকোটে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগের স্বাধীন তদন্তও দাবি করেছে।
ভারত জম্মু ও কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতির পার্থক্যের বিষয়টি তুলে ধরেছে। জম্মু ও কাশ্মীরভিত্তিক মানবাধিকারকর্মী তাসলিমা আখতার বলেছেন, ২০১৯ সালের আগস্টের পর থেকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে সহিংসতা এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর বিধি-নিষেধের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।