NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬ | ২ শ্রাবণ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সমালোচকদের জবাব দিলেন লিওনেল মেসি বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে প্রথমবার ফাইনালে হাফটাইম শো দেশের সব প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতি ফ্যাসিস্ট সরকার ধ্বংস করে গেছে : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে ৫ ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতের বৈঠক ২০২০ নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের দাবি ট্রাম্পের, অভিযোগ অস্বীকার করল বেইজিং বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটে আগুন, সর্বনিম্ন কত? সন্তানদের মিস করে আবেগঘন পোস্ট ‘সেলিনা জেটলি’র জুলাই শহীদ দিবস আজ সেমিফাইনালে গোল না করেও গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এমবাপেকে ছাড়ালেন মেসি যৌন নিপীড়ন মামলায় ৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিলেন ট্রাম্প
Logo
logo

২০২০ নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের দাবি ট্রাম্পের, অভিযোগ অস্বীকার করল বেইজিং


খবর   প্রকাশিত:  ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৭ এএম

২০২০ নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের দাবি ট্রাম্পের, অভিযোগ অস্বীকার করল বেইজিং

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট  ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, চীন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং দেশটির নির্বাচন ব্যবস্থা গুরুতর সাইবার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

এ বিষয়ে থাকা গোয়েন্দা তথ্যের গোপনীয়তা তুলে নেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

 

হোয়াইট হাউস থেকে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ২০২০ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চীন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তার দাবি, এর মাধ্যমে চীন অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২২ কোটি ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করেছে। ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনী ব্যবস্থার বড় ধরনের সংস্কার না করা হলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনও কারচুপির মাধ্যমে প্রভাবিত করা সম্ভব হতে পারে।

ভাষণে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থা নিরাপদ নয় এবং এটি হ্যাকিংয়ের বড় ঝুঁকিতে রয়েছে। তার ভাষায়, প্রত্যেক ভোটারের অধিকার রয়েছে এমন একটি ব্যবস্থায় ভোট দেওয়ার, যেখানে ভোট সঠিকভাবে গণনা হবে এবং কারচুপি বা বাইরের হস্তক্ষেপ প্রায় অসম্ভব হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে যে নির্বাচন ব্যবস্থা চালু রয়েছে, তা সেই মান থেকে অনেক পিছিয়ে আছে। ট্রাম্প আরো জানান, নির্বাচনী অবকাঠামোর দুর্বলতা নিয়ে থাকা গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্যের গোপনীয়তা দ্রুত তুলে নেওয়া হবে।
তার দাবি, ওই তথ্য প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ব্যবস্থা আগে ধারণা করা তুলনায় অনেক বেশি সাইবার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’–এর কিছু সদস্য চীনের তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করেছেন। তার মতে, এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী নিরাপত্তার জন্য নজিরবিহীন সংকট তৈরি করেছে। চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ নতুন নয়।

 


 

২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাইবার–সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, চীনের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ভোটার নিবন্ধনের তথ্য বিশ্লেষণ করেছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এর উদ্দেশ্য ছিল জনমতের প্রবণতা বোঝা। তবে ওই প্রতিবেদনে নির্বাচনের ফল পরিবর্তনের মতো কোনো প্রমাণের কথা বলা হয়নি। অন্যদিকে, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্প ও তার সমর্থকেরা ৬০টির বেশি মামলা করেছিলেন। কিন্তু কোনো আদালতেই এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা নির্বাচনের ফল পরিবর্তনের মতো জালিয়াতির ইঙ্গিত দেয়। এ ছাড়া ভোট পুনর্গণনা, বিভিন্ন নিরীক্ষা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগও এমন কোনো প্রমাণ খুঁজে পায়নি।

 

২৪ মিনিটের ভাষণের শেষ দিকে ট্রাম্প ‘সেভ অ্যাক্ট’ পাস করার আহ্বান জানান। এই আইনের পূর্ণ নাম ‘সেইফগার্ড আমেরিকান ভোটার এলিজিবিলিটি অ্যাক্ট’। প্রস্তাবিত এই আইনে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে। তবে ভোটাধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন বলছে, এই আইন কার্যকর হলে লাখ লাখ যোগ্য ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগে সমস্যায় পড়তে পারেন। বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রের আইনে নাগরিক নন—এমন ব্যক্তির ভোট দেওয়া আগে থেকেই অবৈধ। এছাড়া এমন ঘটনা খুবই বিরল বলেও বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। 

নির্বাচনী জালিয়াতি নিয়ে দেওয়া তার ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার না করায় কয়েকটি টেলিভিশন নেটওয়ার্কের সমালোচনাও করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যেসব সম্প্রচারমাধ্যম তার ভাষণ দেখায়নি, তাদের সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিল করা উচিত। ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই অভিযোগ করেন, এসব গণমাধ্যম নির্বাচন–সংক্রান্ত ষড়যন্ত্রের অংশ। ভাষণে তিনি এবিসি এবং এনবিসি নেটওয়ার্কের নামও উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের বক্তব্যের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের দূতাবাস। দূতাবাসের মুখপাত্র  লিউ চাং বলেন, চীন সব সময় অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি অনুসরণ করে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন দেশটির নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বিষয়। নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করেন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ। চীন কখনও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।