NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, সোমবার, জুন ১৫, ২০২৬ | ১ আষাঢ় ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন গুম ও খুনের শিকার ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা শান্তিচুক্তি ট্রাম্পের ‘আত্মসমর্পণের দলিল’? দুর্দান্ত কামব্যাকে নেদারল্যান্ডসকে রুখে দিল জাপান ভক্তদের ভিড়ে নাজেহাল রাশমিকা, আগলে রাখলেন কৃতি রক্তক্ষয়ী কঙ্গোতে শান্তির পতাকা উত্তোলনে সেনাবাহিনীর বীরত্ব মরক্কোর সঙ্গে ড্র, হতাশায় ‘হেক্সা অভিযান’ শুরু ব্রাজিলের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে এক টুকরো বাংলাদেশ! গানে গানে সৈয়দ আব্দুল হাদীকে শ্রদ্ধা, দেওয়া হলো সংবর্ধনা কক্সবাজারে আজ যেসব কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী নিজেকে ‘গুটিয়ে নেওয়ার’ ইঙ্গিত দিচ্ছেন ট্রাম্প?
Logo
logo

ভিসা জালিয়াতির দায়ে মার্কিন নাগরিকত্ব হারাচ্ছেন ভারতীয় সিইও


খবর   প্রকাশিত:  ১০ জুন, ২০২৬, ০৯:০৬ এএম

ভিসা জালিয়াতির দায়ে মার্কিন নাগরিকত্ব হারাচ্ছেন ভারতীয় সিইও

তথ্য গোপন, জালিয়াতি ও গুরুতর অপরাধের অভিযোগে এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত সিইওসহ মোট ১৭ জনের নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। সোমবার (৮ জুন) মার্কিন বিচার বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেয়।

অভিযুক্তদের মধ্যে আলোচিত ব্যক্তি হলেন নীরাজ শর্মা (৫০)। তিনি নিউ জার্সি-ভিত্তিক কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘ম্যাগনাভিশন এলএলসি’-র ভারতীয় বংশোদ্ভূত সিইও। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি ভুয়া স্বাক্ষর ও নথির মাধ্যমে ১১টি জাল (এইচ-১বি) ভিসার আবেদন করেছিলেন। ২০১৭ সালে নাগরিকত্ব নেওয়ার সময় তিনি এই অপরাধের কথা গোপন করেন।
পরবর্তীতে তিনি ভিসা জালিয়াতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন।

 

মার্কিন অভিবাসন ও জাতীয়তা আইন অনুযায়ী, কোনো নাগরিক যদি জালিয়াতি বা মিথ্যা তথ্যের আশ্রয় নিয়ে দেশটির নাগরিকত্ব পেয়ে থাকেন, তবে সরকার তা বাতিল করতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে এই আইন ব্যবহারের হার ব্যাপক আকারে বাড়িয়েছে বর্তমান প্রশাসন। বিচার বিভাগের তথ্যমতে, ১৭ জনের বিরুদ্ধে শিশু যৌন নির্যাতন, মাদক পাচার, অর্থ আত্মসাৎ ও অভিবাসন জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

অন্যান্য অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন শিশু যৌন নির্যাতনের দায়ে একজন হাইতিয়ান অভিবাসী, সাবেক যুগোস্লাভিয়ার এক নাগরিক, মেক্সিকোর এক অভিবাসী এবং কলম্বিয়া ও ফিলিপাইনের দুই ব্যক্তি। এ ছাড়া অর্থ পাচারে জড়িত কলম্বীয় মাদক পাচারকারীর কন্যা, জ্যামাইকান এক প্রতারক এবং কিউবার এক নারীও এই তালিকায় আছেন।

 

ঐতিহাসিকভাবে আমেরিকায় নাগরিকত্ব বাতিলের ঘটনা খুবই বিরল। ১৯৯০ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে মাত্র ৩০০টির মতো এমন মামলা হয়েছিল, যা বছরে গড়ে ১১টির মতো। আগে মূলত যুদ্ধাপরাধী বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি করা হতো।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন এখন আর্থিক ও অভিবাসন জালিয়াতিকেও এর আওতাভুক্ত করেছে।

 

ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বর্তমানে প্রতি মাসে ২০০টিরও বেশি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা পাঠানোর নির্দেশ পেয়েছে। ইতোমধ্যে বিচার বিভাগ ৩৮৪ জন বিদেশে জন্মগ্রহণকারী আমেরিকানকে চিহ্নিত করেছে, যাদের নাগরিকত্ব বাতিল করার পরিকল্পনা রয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন জানিয়েছেন, অভিবাসন প্রক্রিয়ায় যারা মিথ্যা বলেছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার ‘প্রতিটি আইনসম্মত পথ’ ব্যবহার করবে।

অভিযুক্ত ১৭ জন নাগরিকই ফেডারেল আদালতে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করার সুযোগ পাবেন। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তারা মার্কিন নাগরিকত্বের সব অধিকার ও সুরক্ষা হারাবেন এবং তাদের নিজ দেশে ফেরত (নির্বাসন) পাঠানো হতে পারে।