NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২৬ | ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
বাংলাদেশে আল-কায়েদার সেল গঠনের চেষ্টা, সতর্ক করল জাতিসংঘ দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে মির্জা ফখরুল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ইসিতে জমা পড়েছে তিন মনোনয়নিপত্র বিএনপির মহাসচিব পদ থেকে পদত্যাগ মির্জা ফখরুলের, রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা দিবস পালন: বিশ্বমঞ্চে সার্বভৌমত্বের জোরালো স্বীকৃতি দাবি বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়াতে গুরুত্বারোপ হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির পদ ছাড়ছেন ক্যারোলিন লেভিট তুরস্কে ট্রাম্পের অবস্থান জানত ইরান, ছিল বিমানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিকল্পনা প্রথম সেশনেই ৪ উইকেট শিকার বাংলাদেশের, চাপে অস্ট্রেলিয়া
Logo
logo

টিকা সংকটে শিশুমৃত্যু: ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ


খবর   প্রকাশিত:  ১০ জুন, ২০২৬, ০৯:০৬ এএম

টিকা সংকটে শিশুমৃত্যু: ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ

আদালত প্রতিবেদক:

হামে আক্রান্ত হয়ে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা এবং বর্তমান সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে একটি মামলার আবেদন করা হয়েছিল। তবে আদালত সেই আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে (হাইকোর্ট) আপিল করার কথা জানিয়েছেন মামলার বাদীপক্ষ।

​গতকাল ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জসিতা ইসলামের আদালতে মামলার এই আবেদনটি করেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করার পর আদেশ অপেক্ষমাণ রাখেন এবং পরে মামলাটি খারিজ করে দেন।

​বাদীপক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম জানান, আদালত তাঁর আদেশে বলেছেন—আসামিরা সরকারের অংশ ছিলেন এবং মামলায় যে সমস্ত ধারা আনা হয়েছে, তা আসামিদের ওপর প্রযোজ্য নয়। এই কারণেই মামলাটি খারিজ করা হয়েছে। তবে তাঁরা এই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবেন।

​মামলার বাদী এমপি শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল সাংবাদিকদের বলেন, এটি কোনো ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে করা মামলা নয়। তাঁর নির্বাচনী এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বহু শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে জনগণের স্বার্থে বিষয়টি আদালতের সামনে আনা তিনি নিজের দায়িত্ব মনে করেছেন। যাদের অবহেলায় এসব শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা উচিত।

​মামলার অন্য আসামিরা হলেন:

​সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ সচিব মো. সাইদুর রহমান।

​সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান।

​স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর।

​মামলার মূল অভিযোগসমূহ:

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ড. মুহাম্মদ ইউনূস উচ্চশিক্ষিত ও নোবেল বিজয়ী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর চরম অবহেলা ও উদ্দেশ্যমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে দেশে শত শত শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার শিশুর জীবন বিপন্ন হয়েছে, যা হত্যাকাণ্ডের শামিল। অন্য আসামিরাও স্বাস্থ্য বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে যথাসময়ে হামের ভ্যাকসিন (টিকা) আমদানি না করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন, যা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণের সমান।

​আবেদনে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ সরকার ইউনিসেফের মাধ্যমে হাম-রুবেলাসহ বিভিন্ন টিকা আমদানি করে আসছিল। কিন্তু ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা আমদানি বন্ধ করে দেয়। এরপর উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহের দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া শুরু করায় দেশে টিকার তীব্র সংকট তৈরি হয়।

​ইউনিসেফের সতর্কবার্তা উপেক্ষা ও ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান:

মামলার আবেদনে ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্সের গত ২০ মে প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারের সূত্র উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা হয়েছিল, হাম-রুবেলা টিকার সম্ভাব্য সংকট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল এবং বর্তমান ব্যবস্থা বন্ধ না করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয়নি।

​এর ফলে দেশে বিপুলসংখ্যক শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হয় এবং হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৫ হাজার ৭০৮ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে এবং সরকারি হিসাবেই অন্তত ৬১০ জন শিশু মারা গেছে। হাসপাতালের বাইরে আক্রান্ত ও মৃত শিশুদের একটি বড় অংশ এই পরিসংখ্যানে আসেনি। এই মানবিক বিপর্যয়ের কারণে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানানো হয়।