হন্ডুরাসে বন্দুকধারীদের পৃথক হামলায় অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন।
খবর প্রকাশিত: ২২ মে, ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম

হন্ডুরাসে বন্দুকধারীদের পৃথক হামলায় অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন।
দেশটির উত্তরাঞ্চলের ত্রুহিলো পৌর এলাকায় একটি পাম চাষের বাগানে হামলা চালিয়ে বন্দুকধারীরা ১৯ জনকে হত্যা করে। স্থানীয় একটি গ্রামীণ সংগঠনের নেতা এএফপিকে জানান, নিহতরা ওই এলাকায় সক্রিয় একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন।
প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, কাজের জন্য ব্যবহৃত রাবারের বুট পরা কয়েকজনের মরদেহ বাগানের বাইরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। অন্যদিকে, গুয়াতেমালা সীমান্তসংলগ্ন পশ্চিমাঞ্চলের ওমোয়া এলাকায় আরেকটি হামলায় ছয় পুলিশ সদস্য নিহত হন।
পুলিশ জানায়, তারা গ্যাং দমনের একটি অভিযানে অংশ নিতে সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু পথে সশস্ত্র হামলাকারীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
দুটি হামলার পর জাতীয় পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত বিশেষ অভিযান চালানো হবে। একই সঙ্গে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছে সরকার।
হন্ডুরাস দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাং সহিংসতা ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে সংগ্রাম করছে।
সাম্প্রতিক হামলাগুলো দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে কঠোর নিরাপত্তা নীতির কারণে নাগরিক স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। সম্প্রতি পাস হওয়া নতুন আইনে সরকার গ্যাং ও মাদক চক্রগুলোকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। পাশাপাশি সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবেলায় একটি নতুন বিশেষ ইউনিটও গঠন করা হয়েছে।
ত্রুহিলোর হামলাটি আগুয়ান নদী উপত্যকার কাছে ঘটেছে। এই এলাকায় মাদক পাচার ও পাম তেল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে কয়েক দশক ধরে জমি নিয়ে সংঘর্ষ চলছে।
ত্রুহিলোর পুলিশপ্রধান কার্লোস রোহাস স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, এসব গোষ্ঠী অবৈধভাবে বড় বড় আফ্রিকান পাম বাগান দখল করে রেখেছে এবং সেখান থেকে আয় করা অর্থ দিয়ে অস্ত্র সংগ্রহ করছে।
তবে স্থানীয় কৃষক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, বহুজাতিক কৃষি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোই এসব অপরাধী গোষ্ঠীকে সমর্থন দেয়, যাতে তারা জমি দখল করে রাখতে পারে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বিতর্কিত জমি পুনরুদ্ধার করতে বাধা দিতে পারে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এই অঞ্চলে গত কয়েক বছরে ১৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন।
বিশেষ করে পরিবেশ ও ভূমি অধিকারকর্মীরা প্রায়ই হামলার শিকার হন। বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত হন্ডুরাসে সম্প্রতি ২০২৪ সালে এক প্রভাবশালী পরিবেশকর্মীকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে একজন মেয়রসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।