মধ্যপ্রাচ্য তথা বিশ্বরাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ক্রমেই দুর্বল হয়ে আসছে এবং এক নতুন বিশ্বব্যবস্থা গড়ে উঠছে—ইরানের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রথম পাতায় এই সুরই ফুটে উঠেছে।
বার্তা সংস্থা সিএনএন বলছে, দেশটির রক্ষণশীল থেকে শুরু করে সংস্কারপন্থী, সব ধারার সংবাদপত্রই বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির ব্যর্থতা এবং আমেরিকার অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক দুর্বলতাকে প্রধান্য দিয়ে খবর প্রকাশ করেছে।
বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের বর্তমান অবস্থান এবং চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সমীকরণকে তারা ওয়াশিংটনের পরাজয় হিসেবে চিত্রায়িত করেছে।
ইরানের প্রভাবশালী রক্ষণশীল দৈনিক ‘কায়হান’ তাদের প্রধান শিরোনামে লিখেছে, ‘ট্রাম্পের পাহাড়সম উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত ইঁদুর প্রসব করেছে! সংকীর্ণ হয়ে এলো হরমুজ প্রণালি।
’ পারস্যের একটি জনপ্রিয় প্রবাদ ব্যবহার করে পত্রিকাটি বোঝাতে চেয়েছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন বড় বড় উদ্যোগের কথা বললেও বাস্তবে তার ফল হয়েছে অতি নগণ্য।
পত্রিকাটি আরও দাবি করেছে যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রাম্পের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে এবং কোনো আন্তর্জাতিক জাহাজই এখন আর যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করতে পারছে না।
অন্যদিকে, সংস্কারপন্থী পত্রিকা হিসেবে পরিচিত ‘শারঘ’ তাদের প্রতিবেদনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করেছে। আজকে পত্রিকাটির প্রধান শিরোনাম ছিল, ‘তেল আবিবের ফাঁদে আটকা পড়েছে আমিরাত।
’

তাদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সখ্যতা বজায় রাখতে গিয়ে আমিরাতের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলো কৌশলগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
একই সঙ্গে পত্রিকাটি বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে জানিয়েছে যে, চীন তার ছোট শোধনাগারগুলোকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরানি তেল কেনার নির্দেশ দিয়েছে, যা কার্যত আমেরিকার অর্থনৈতিক আধিপত্যের মুখে বড় চ্যালেঞ্জ।
এছাড়াও ইরানি দৈনিক ‘ফারহিখতেগান’ তাদের প্রথম পাতায় ট্রাম্পের শাসনশৈলী বা ‘ট্রাম্পিজম’-কে যুক্তরাষ্ট্রের পতনের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পত্রিকাটির শিরোনাম ছিল— ‘ট্রাম্পবাদই ডেকে আনবে আমেরিকার বিনাশ।
’
নাৎসি ভাবধারার রূপক ব্যবহার করে তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে একজন কর্তৃত্ববাদী এবং রাজনৈতিকভাবে একঘরে নেতা হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
সামগ্রিকভাবে ইরানের গণমাধ্যমগুলো এই বার্তাই দিতে চেয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ এখন কেবল ইতিহাস এবং বিশ্ব এক নতুন মেরুকরণের দিকে ধাবিত হচ্ছে যেখানে ওয়াশিংটন ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ছে।