NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শনিবার, মে ৯, ২০২৬ | ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
মাদকদ্রব্য পাচার রোধে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর রাজধানীর কদমতলীতে ফোম কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে সার্ভিসের ৫ ইউনিট নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটি ইনকের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত খালেদা জিয়া স্মৃতি স্বর্ণপদক পাচ্ছেন মির্জা ফখরুল-তামিম-ফাতেমারা জাতিসংঘ ফোরামে নিরাপদ অভিবাসনে জোরালো বৈশ্বিক সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ Bangladesh calls for stronger global cooperation on safe migration at UN forum হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা স্বচ্ছতার সঙ্গে তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ঈদুল আজহা উপলক্ষে একটি সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল ইরাকের ৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এসআইআর বিতর্কে জল ঢেলে দিল পরিসংখ্যান
Logo
logo

যুদ্ধবিরতি নয়, খড়কুটো আঁকড়ে ধরার চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের


খবর   প্রকাশিত:  ০৬ মে, ২০২৬, ০৯:০৫ এএম

যুদ্ধবিরতি নয়, খড়কুটো আঁকড়ে ধরার চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা সত্ত্বেও যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তবে ভিন্ন সুরে কথা বলেছেন মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। তার দাবি, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইরান একাধিকবার মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা চালালেও তা পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর করার সীমা অতিক্রম করেনি।

মঙ্গলবার পেন্টাগনের একই ব্রিফিংয়ে তারা পাল্টাপাল্টি এসব কথা বলেন বলে জানায় বার্তা সংস্থা সিএনএন

 

হরমুজ প্রণালিতে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটলেও পিট হেগসেথ জোর দিয়ে বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি শেষ হয়নি। প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে যুক্তরাষ্ট্র যে নতুন মিশন শুরু করেছে, তার শুরুতেই কিছুটা অস্থিরতা স্বাভাবিক।’

তিনি আরও বলেন, ‘মিশনটি চলমান সামরিক অভিযানের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ও সীমিত পরিসরের। সেই সঙ্গে এটি প্রতিরক্ষামূলক ও সাময়িক উদ্যোগ।

 

এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের মূল্যায়ন অনুযায়ী যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর থাকায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সামরিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন নেই বলেও জানান প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইরান একাধিকবার মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছে। তবে এসব হামলা এখনো পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার মতো পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

তিনি জানান, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইরান এখন পর্যন্ত বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর নয়বার গুলি চালিয়েছে এবং দুটি কন্টেইনার জাহাজ জব্দ করেছে।

একই সময়ে মার্কিন বাহিনীর ওপর ১০ বারেরও বেশি হামলা চালানো হয়েছে।

 

ড্যান কেইন বলেন, এই সব হামলাই এখন পর্যন্ত বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার সীমার নিচে রয়েছে। পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত একটি রাজনৈতিক বিষয়, যা তার দায়িত্বের বাইরে।

বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘হয়রানিমূলক’ হামলা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘মনে হচ্ছে ইরান (যুদ্ধ শুরু করতে) এখন মরিয়া অবস্থায় রয়েছে।’

এদিকে যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে ইরান বলেছে, এই জলপথে তাদের নিয়ন্ত্রণকে হুমকির মুখে ফেললে পরিস্থিতি আরও জটিল করার অতিরিক্ত সক্ষমতা তাদের রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র যেখানে অচলাবস্থা (যুদ্ধবিরতি) ভাঙার দৃঢ় অবস্থানের কথা বলছে, সেখানে তেহরান স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে—এই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে তারা প্রস্তুত।

 

যুদ্ধের সময় বড় ধরনের ক্ষতির পর বিজয় অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে ইরানি কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে।

দেশটির স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ বলেন, ওয়াশিংটন মেনে না নিলেও হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের অবস্থান বজায় রাখতে চায় ইরান।

এর আগে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সামরিক কর্মকর্তা বলেন, নতুন করে সংঘাত সম্ভব। তবে এবার শত্রুপক্ষের জন্য ‘অপ্রত্যাশিত’ ও ‘বিস্ময়কর পদক্ষেপ’ প্রস্তুত রয়েছে।]

দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনাও চলার মধ্যেও সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ফলে হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার চেষ্টা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।