খবর প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০৪ এএম

যুক্তরাস্ট্র প্রবাসী বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আব্দুল ওহাব জোয়ারদার মছুফ সুইজারল্যান্ডের “ইউরোপিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজম্যান্ট অ্যান্ড টেকনোলজি“ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেছেন। গতকাল এক পত্রের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার ৩ বছর মেয়াদী এই পিএইচডি ডিগ্রি অনুমোদনের কথা জানিয়েছেন।
ওহাব জোয়ারদারের পিএইচডি ডিগ্রিটি ছিলো ডক্টর অব এডুকেশন এন্ড কাউন্সিলিং এর উপর এবং টপিক্স ছিলো “Diffrence in Approach to receiving counselling among the young & old phycriatric patients“
তিনি তার এই গবেষণা কর্মটি সম্পাদনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বনামধন্য সামাজিক প্রতিষ্ঠান Help Usa, Social service inc. এর Clarke Thamas homeless Shelter এ বসবাসরত প্রায় ৩০০ জন পুরুষের উপর Random প্রদ্ধতিতে কাউন্সিলিং বিষয়ে ১০টি প্রশ্নের মাধ্যমে ডাটা সংগ্রহ শেষে Mixed method প্রদ্ধতি ব্যবহার করে Data analysis সম্পন্ন করে চুড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হন। তিনি প্রমান করতে সক্ষম হন যে , মানসিক ও দূস্চিন্তাগ্রস্হ মানুষকে যদি একই গ্রোপে একই Approach ব্যবহার না করে Diffrence approach অর্থাৎ বয়স ভিত্তিক বিভিন্ন গ্রোপে ভাগ করে কাউন্সিলিং সম্পন্ন করা হয় তাহলে ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভব । তিনি তার এই গবেষণা কর্মটি প্রায় ৩৫০ পৃস্টার থিসিস ও তিন শতাধিক রেফারেন্সের মাধ্যমে সম্পন্ন করেন।
ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের সাবেক এসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ভাদেশ্বর মহিলা ডিগ্রি কলেজের সাবেক প্রভাষক ওহাব জোয়ারদার সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি ১৯৮৫ সালে আত্হারিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরবর্তিতে ১৯৮৭ সালে এমসি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ (তৎকালিন সরকারী কলেজ ) থেকে কৃতিত্বের সাথে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। একই কলেজ থেকে তিনি ১৯৯৩ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে দ্বিতীয় শ্রেনীতে বিএসএস অনার্স ডিগ্রি লাভ করেন এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৫ সালে একই বিষয়ে উচ্চতর দ্বিতীয় শ্রেণীতে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন।
ওহাব জোয়ারদার পড়ালেখা শেষে একটি বর্নাঢ্য ক্যারিয়ার গড়ে তুলেন। তিনি ১৯৯৮ সালে জনতা ব্যাংকে সরকারী কর্মকর্তা হিসেবে চাকুরীতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে তিনি বেসরকারী এক্সিম ব্যাংকে ম্যানেজার অপারেশন হিসেবে যোগদান এবং ২০১১ সালে ডাচ্ বাংলা ব্যাংকে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার ও ম্যানেজার হিসেবে চাকুরিতে যোগদান করেন। ২০১৫ সালে তিনি এসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে পদোন্নতি পান এবং ২০১৯ সালে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করে স্বপরিবারে আমেরিকায় চলে আসেন।
ওহাব জোয়ারদার চাকুরীর পাশাপাশি রাজনীতিতে ও সক্রিয় ছিলেন। তিনি সিলেট এম সি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী ও লক্ষীপাশা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে ছাত্র রাজনীতি শুরু করেন। তিনি ১৯৯৬ সালে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মনোনীত হন।পরবর্তীতে তিনি ২০০৫ সালে সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের প্রতিষ্ঠাতা সহ সভাপতি এবং ২০০৮ সালে স্বেচ্ছাসেবকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পরবর্তীতে ২০১৫ সালে দ্বিতীয় বার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনোনিত হন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি লুৎফা-মতিন ফাউন্ডেশন গোলাপগন্জ এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।
আব্দুল ওহাব জোয়ারদার তিন কন্যা সন্তানের জনক। তার বড় মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ফোর্ড হাম ইউনিভার্সিটি থেকে একই সাথে কম্পিউটার সায়েন্স, বায়োলজি ও মেথমেটিক্সে অনার্স ডিগ্রি লাভ করে আমেরিকার একটি স্বনামধন্য কোম্পানিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত আছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ইউনিভার্সিটি Georgia institute of engineering & technology তে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত। মেজ মেয়ে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে সিভিল ইন্জিনিয়ারিং এর তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। ছোট মেয়ে নিউইয়র্কের স্বনামধন্য হাই স্কুল ম্যানহাটন সাইন্স এন্ড মেথমেটিক্স এর ৯ম গ্রেডের শিক্ষার্থী। তার স্ত্রী ফয়জিয়া জাহান সিলেট জালালাবাদ ক্যন্ট্নম্যান্ট বোর্ড হাইস্কুলের শিক্ষক ছিলেন।