NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৬ | ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
দেশের স্বার্থে বিরোধীদলের সঙ্গে যেকোনো আলোচনায় রাজি বিএনপি : প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধবিরতি স্থায়ী সমাধানে তৎপর পাকিস্তান যে ৩ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, জানালেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মার্কিন নৌবাহিনীর সচিবের হঠাৎ পদত্যাগ, তৎক্ষণাৎ কার্যকর লন্ডন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে রাফীর ‘প্রেশার কুকার’ ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের ঘটনায় একতরফা দোষারোপ না করার অনুরোধ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সীমানা পার করবেন না—লেবাননবাসীকে নতুন হুমকি ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধে এবার ভেস্তে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন? না-ফেরার দেশে ফরাসি অভিনেত্রী নাদিয়া ফারেস রিয়াল মাদ্রিদের জয়, এমবাপ্পে-ভিনিসিয়ুসে টিকে রইল লড়াইয়ে
Logo
logo

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার খবরে ইরানীরা ক্ষুব্ধ


খবর   প্রকাশিত:  ০৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০৪ এএম

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার খবরে ইরানীরা ক্ষুব্ধ

দুই সপ্তাহের জন্য থামছে লড়াই। কিন্তু তেহরানের রাস্তায় মানুষের মুখে একটাই প্রশ্ন–‘কেন?’ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতের আল্টিমেটামের মাত্র দুই ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছেন তিনি। অথচ তার আগে হুমকি দিয়েছিলেন, চুক্তি না হলে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ হবে ইরান।

হঠাৎ এই উল্টোপথে হাঁটার ঘটনায় বিশ্ব যখন বিস্মিত, তখন তেহরানের সাধারণ মানুষ ব্যক্ত করছেন হতাশা।

এমনকি রাস্তায় গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন অনেকে। হাতে জাতীয় পতাকা। গাড়ির জানলা দিয়ে উড়ছে সবুজ-লাল-সাদা রং। এক মহিলা গাড়ির ভেতর থেকে সরাসরি বলেন: ‘আমরা দুবার আলোচনার টেবিলে বসেছি, আর ওরা হামলা চালিয়েছে।
এই যুদ্ধবিরতিও নিশ্চয়ই নিজেদের শক্তি ফিরে পাওয়ার জন্য।’

 


 

আরেক ইরানি নারীর কণ্ঠে তিক্ততা আরো স্পষ্ট: ‘আমেরিকার স্বভাব কি বদলায়? বুঝতে পারছি না, কেন তারা হামলা বন্ধে রাজি হলো। সব সময়ের মতোই ইসরায়েলের জন্য সময় কিনতে চাইছে তারা...’

এমন সময় পাশের আরেক মহিলা চিৎকার করে ওঠেন–‘আমাদের নেতা শহীদ হয়েছেন।’

‘হরমুজ প্রণালি’ খুলে দেওয়ার খবরেও হতাশ ইরানিরা ।

 

তেহরানের এনঘেলাব চত্বরে জড়ো হয়েছেন শত শত মানুষ। পতাকা হাতে সড়কে ভিড়। এক গাড়ির মহিলা সরাসরি প্রশ্ন তোলেন: “আমরা কেন যুদ্ধবিরতি করব? এখানে লেখা ছিল, ‘হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।’ এখন সেটা আবার খুলে গেছে।”

আরেক নারীর দাবি, নতুন নেতৃত্ব এখনো যুদ্ধবিরতি মেনে নেননি: “নতুন সুপ্রিম লিডার নিজে যদি এসে বলেন ‘হ্যাঁ’, তবে আমরা মেনে নেব।

কিন্তু তিনি বলেননি। ওঁর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

 


 

কার জয়? কার পরাজয়?

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এই চুক্তিকে নিজেদের জয় হিসেবে দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, ট্রাম্প ইরানের শর্তেই যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছেন।

কিন্তু হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কারোলিন লিভিট একেবারে উল্টো কথা বলেছেন: “সত্য হলো, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও আমাদের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলতে বাধ্য করেছে। এবং আলোচনা চলবে।”

সবশেষে তেহরানের গাড়ি চলছে। পতাকা উড়ছে। কিন্তু মুখে কোনো উল্লাস নেই। বরং আছে সন্দেহ, ক্ষোভ আর একটাই প্রশ্ন–‘কেন হঠাৎ যুদ্ধবিরতি?’