NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২৬ | ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি : প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা চাইল পাকিস্তান শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধে ফ্রান্সে আইন পাস নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের আইনি ক্ষমতা নিউইয়র্ক সিটির নেই : মামদানি আটকের সময় রাহুল গান্ধীকে পুলিশ সদস্যের বার্তা—‘মোদিকে হটাও’ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে গিয়ে আটক, পরে মুক্ত ‘ধুরন্ধর’ অভিনেত্রী আয়েশা খান আমরা একসঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকব : প্রধানমন্ত্রী কানাডার পণ্যে ৫০% শুল্ক ঘোষণা ট্রাম্পের জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহে সহায়তার প্রতিশ্রুতি—প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম ভাষণে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম আর্জেন্টিনাকে পেছনে ফেলে এবার র‌্যাংকিংয়েও শীর্ষে স্পেন
Logo
logo

ইরান যুদ্ধের খরচ আরবদেশগুলোর ওপর চাপাতে চান ট্রাম্প


খবর   প্রকাশিত:  ০১ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:০৪ এএম

ইরান যুদ্ধের খরচ আরবদেশগুলোর ওপর চাপাতে চান ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের ব্যয় বহনে আরবদেশগুলোর কাছে আহ্বান জানাতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস এমন ইঙ্গিত দিয়েছে। যুদ্ধের ব্যয় দ্রুত বেড়ে চলায় এমন সম্ভাবনা সামনে এসেছে।

উপসাগরীয় যুদ্ধের (১৯৯০) সময় যেমন মার্কিন মিত্ররা সামরিক ব্যয়ের অংশ বহন করেছিল।

এবারও আরব রাষ্ট্রগুলোকে খরচ বহনের আহ্বান জানানো হতে পারে পারে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিট সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে তাদের আহ্বান জানাতে পারেন। এমন পরিকল্পনা তার মাথায় রয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে আরো শোনা যাবে।’

 

উপসাগরীয় যুদ্ধে (১৯৯০) কুয়েতে ইরাকের আগ্রাসন প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি বৈশ্বিক জোট গঠিত হয়েছিল।

ওই সময় জার্মানি ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশ প্রায় ৫৪ বিলিয়ন ডলার (বর্তমান মূল্যে প্রায় ১৩৪ বিলিয়ন ডলার) সংগ্রহ করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয়ের অংশ বহন করেছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন। এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিত্র দেশ ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর অংশগ্রহণ ছাড়াই একতরফাভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়েছে।

 

এদিকে ট্রাম্পঘনিষ্ঠ ডানপন্থী ভাষ্যকার শন হ্যানিটি সম্প্রতি বলেন, সম্ভাব্য যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানকে যুদ্ধের পুরো খরচ পরিশোধ করতে বাধ্য করা উচিত।

তার মতে, ‘এই সামরিক অভিযানের সম্পূর্ণ ব্যয় ইরানকে তেলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে পরিশোধ করতে হবে।’ অন্যদিকে ইরান উল্টো যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। তেহরানের দাবি, কূটনৈতিক আলোচনার মাঝেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্র বা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি ছিল না।

 

মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। যদিও ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তারা মূলত অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

তবে বিভিন্ন উপসাগরীয় দেশে হোটেল, বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোর মতো বেসামরিক স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে।

 

যুদ্ধের ব্যয়ও দ্রুত বেড়ে চলেছে। মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ছয় দিনে যুদ্ধের খরচ ছিল ১১.৩ বিলিয়ন ডলার, যা ১২তম দিনে বেড়ে দাঁড়ায় ১৬.৫ বিলিয়ন ডলারে। বর্তমানে ৩১তম দিনে এই ব্যয় আরো অনেক বেশি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে হোয়াইট হাউস কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত অন্তত ২০০ বিলিয়ন ডলার সামরিক বাজেট অনুমোদনের অনুরোধ জানিয়েছে, যা ইরানে চলমান সামরিক অভিযান পরিচালনা এবং পেন্টাগনের অস্ত্রভাণ্ডার পুনরায় পূরণে ব্যয় করা হবে।

অন্যদিকে, ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় মূল্য বেড়ে ৩.৯৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এক ডলারেরও বেশি। তবে হোয়াইট হাউসের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধি সাময়িক। ক্যারোলিন লিভিট বলেন, ‘এগুলো স্বল্পমেয়াদি মূল্য ওঠানামা। ইরানের হুমকি মোকাবেলার দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’