NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, সোমবার, জুন ৮, ২০২৬ | ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর ধন্যবাদ সংবাদমাধ্যমকে ‘অসৎ’ বলে এনবিসির সাক্ষাৎকার থেকে বেরিয়ে গেলেন ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়াকে ৫ শর্ত যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স-জার্মানির মার্কিন ভিসা বিতর্কের মধ্যেই মেক্সিকো পৌঁছেছে ইরান বিশ্বকাপ দল ঘোড়ার মাংস খাওয়া নিয়ে জয়া আহসানের রিট, যে নির্দেশ দিলেন হাইকোর্ট এরদোয়ানকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর রাজকুমারী অ্যানের ছেলের বিয়েতে ব্রিটিশ রাজপরিবারের মিলনমেলা লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় বেশ কয়েকজন লেবানিজ সেনা নিহত সিঙ্গাপুরে দুটি সোনার পদক জয় বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী তুরস্ক
Logo
logo

উন্নত বিশ্বের বিষাক্ত বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে পাকিস্তান?


খবর   প্রকাশিত:  ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৩, ০১:০০ এএম

>
উন্নত বিশ্বের বিষাক্ত বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে পাকিস্তান?

উন্নত দেশগুলো তাদের বিষাক্ত বর্জ্য পাকিস্তানে পাঠাচ্ছে বলে সম্প্রতি বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সেদেশের পরিবেশবিদ এবং রাজনীতিবিদরা।

পাকিস্তান পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত  স্থায়ী কমিটি সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন পেশ করা হয়েছে; যেখানে বলা হয়েছে— যুক্তরাজ্য, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবসহ বেশ কয়েকটি দেশ পাকিস্তানে বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত বর্জ্য পাঠাচ্ছে।

কমিটির সদস্য মোহাম্মদ হুমায়ূন মোহমান্দ ডয়চে ভেলেকে এ প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের এখানে সাধারণ বর্জ্য এবং বিষাক্ত বর্জ্য আলাদা করার প্রযুক্তি নেই৷ আমাদের বলা হয়েছে, আমদানি করা বর্জ্যের ১৪ শতাংশে বিষাক্ত পদার্থ রয়েছে।’

সরকার কেন এই বর্জ্য আমদানির অনুমতি দিয়েছে  সে বিষয়ে তিনি সরাসরি কিছু না বলে বলেছেন, কর্তৃপক্ষের কাছে এ সংক্রান্ত যত তথ্য রয়েছে, সব এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কমিটির আরেক সদস্য তাজ হায়দারও এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন, কিন্তু বর্জ্যে কী ধরনের বিষাক্ত পদার্থ রয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি হননি।

বর্জ্যের মধ্যে কিছু বিষাক্ত উপাদান থাকে, যেসব সহজে নষ্ট করা যায়; কিন্তু আমদানি করা বিভিন্ন চালানে এমন কিছু উপাদান পাওয়া গেছে, যেসব সাধারণ প্রযুক্তির সাহায্যে ধ্বংস করা যায় না।

কীভাবে এসব বর্জ্য আসছে পাকিস্তানে?

পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা সৈয়দ মুজতবা হুসেইন বলেন, পাকিস্তান বিষাক্ত বর্জ্য সংক্রান্ত বাসেল কনভেনশনে সাক্ষর করেছে, যার আওতায় দেশটিতে বিষাক্ত বর্জ্য আমদানি এবং বিনষ্ট করা নিষিদ্ধ।

কিন্তু অনেক সময় সাধারণ বর্জ্যের সাথেই বিষাক্ত বর্জ্য চলে আসছে, যা আলাদা করা কঠিন বলে ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি আরো জানান, ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৬২৪টি কনটেইনারে করে প্লাস্টিক বর্জ্য পাকিস্তান আমদানি করেছিল, সবগুলোতেই বিষাক্ত পদার্থ ছিল। সেই সময় পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগও করেছিল।

পাকিস্তান উন্নত দেশ থেকে বর্জ্য আমদানি করে। কারণ, এসব বজ্যে বিভিন্ন ধাতব পদার্থ থাকে। এসব ধাতব পদার্থ বৈদ্যুতিক পাখা, তার, মোটরগাড়ির যন্ত্রাংশও দরজা-জানালা তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা জাইঘাম আব্বাস জানালেন, ‘বর্জ্য আমদানি আইনের ক্ষেত্রে একটা ফাঁক রয়েছে, তা হলো সেখানে ‘অন্যান্য আইটেম' নামে একটা ক্যাটাগরি আছে। সেটার আওতায় যারা বর্জ্য পাঠাচ্ছে, তারা এই ক্যাটাগরিতে কী জিনিস আসছে সে বিষয়ে তথ্য না-ও জানাতে পারে।’

তিনি আরো জানান, এসব বিষাক্ত পদার্থ খুব সহজে পানি আর মাটিতে মিশে যায়, আর এটি পোড়ালে বায়ু দূষণ হতে পারে। তবে ডয়চে ভেলে সেইসব বিষাক্ত পদার্থের তালিকা চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকার করেন।

সিন্ধু প্রদেশে সরকারের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পাকিস্তানে বিষাক্ত বর্জ্য আলাদা করার কোনো প্রযুক্তিই নেই। ফলে ঠিক কী পরিমাণ বিষাক্ত বর্জ্য জমা হয়েছে তা তাদের জানা নেই৷

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি এবং বেসরকারি রিসাইক্লিং কোম্পানিগুলোর কারণেই এসব বিষাক্ত বর্জ্য পাকিস্তানে প্রবেশ করছে।

করাচির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কোম্পানির প্রধান নির্বাহী আহমাদ সাব্বার বলেন, চীন বিষাক্ত বর্জ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার পর পাকিস্তানসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিষাক্ত বর্জ্য রপ্তানি বেড়েছে। পাকিস্তানে কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা না থাকায়এসব বর্জ্য নদীতে ফেলা হচ্ছে, অথবা পোড়ানো হচ্ছে, যার ফলে উচ্চমাত্রায় পানি ও বায়ু দূষণ হচ্ছে৷

 নীতির সংস্কার প্রয়োজন

ইসলামাবাদের পার্লামেন্ট সদস্য কিশোয়ার জেহরার ধারণা, গত কয়েক বছরে পাকিস্তানে যত রোগের প্রাদুর্ভাব হয়েছে, সেসবের প্রধান কারণ এসব বিষাক্ত বর্জ্য৷

সাধারণ ও বিষাক্ত বর্জ্য আলাদা করার প্রযুক্তি না থাকলে পাকিস্তানের বর্জ্য আমদানি থেকে বিরত থাকা উচিত বলে মনে করেন তিনি৷

চলতি বছরের ২৮ জুন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় জাতীয় বিষাক্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নীতি পাস হয়৷