NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বুধবার, মে ৭, ২০২৫ | ২৩ বৈশাখ ১৪৩২
ব্রেকিং নিউজ
ভবিষ্যতে এমন হামলার চেষ্টা করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না: উপদেষ্টা অর্ডিন্যান্স আকারে আইন করে বাংলাদেশ হেলথ সার্ভিস গঠনের সুপারিশ মালয়েশিয়া সফর স্থগিত করলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হামজা-শামিত জুটি সম্ভাবনার আরেক ধাপ অগ্রগতি কোরবানির চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে কমিটি গঠনের নির্দেশ - প্রধান উপদেষ্টা মহসিন কলেজ ছাত্রলীগ নেত্রীকে পুলিশে দিলো শিক্ষার্থীরা ইসরায়েলে বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোর ফ্লাইট বাতিলের হিড়িক তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতা চান না ট্রাম্প বাংলাদেশি হিসেবে রিশাদের রেকর্ডের দিনে লাহোরের হার ভারতীয় অনুরাগীদের মন্তব্যে হানিয়া বললেন ‘আমি কেঁদে ফেলব’
Logo
logo

‘গুরুত্বপূর্ণ’ আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী


খবর   প্রকাশিত:  ২৪ জুন, ২০২৪, ০৪:১১ পিএম

‘গুরুত্বপূর্ণ’ আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট রবিবার ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন। এ সফরে তিনি চলমান গাজা যুদ্ধ ও লেবাননের হিজবুল্লাহ আন্দোলনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সীমান্ত উত্তেজনা নিয়ে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ আলোচনা করবেন।

এ ছাড়া ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আশা প্রকাশ করেছেন, ইসরায়েলের শীর্ষ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ পুনরায় চালু করার বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতি হবে, যা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ব্যাপকভাবে কমে গেছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গাজার বেসামরিক মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় ইসরায়েলের এই অভিজ্ঞ ডানপন্থী নেতার সঙ্গে মতবিরোধে রয়েছেন।

তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, অস্ত্র ইস্যু নিয়ে নেতানিয়াহু কী বলছেন সে সম্পর্কে তারা অবগত না।

 

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী রবিবার তার মন্ত্রিসভাকে বলেছেন, ‘প্রায় চার মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহে একটি নাটকীয় হ্রাস ঘটেছে। আমরা বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা পেয়েছি। কিন্তু...মৌলিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি।

’ বিষয়টি এখন পরিষ্কার হয়ে যাবে আশা প্রকাশ করে তিনি আরো বলেন, ‘গতকালের কথোপকথনের আলোকে আমি আশা ও বিশ্বাস করি, এই বিষয়টি শিগগিরই সমাধান হবে।’

 

এদিকে ইসরায়েলি বাহিনী রবিবার আবারও গাজায় বোমা ফেলেছে। এর এক দিন আগে তেল আবিবে সরকারবিরোধী ও হামাসের হাতে আটককৃতদের মুক্তির দাবিতে হাজার হাজার মানুষ প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের উত্তরের সীমান্তে লেবাননের ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ আন্দোলনের সঙ্গে প্রতিদিনের সংঘর্ষের ফলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এতে সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কাও বেড়েছে।

 

গ্যালান্ট বলেছেন, তিনি ‘গাজা ও লেবাননের পরিস্থিতি’ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সফরে আলোচনা করবেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, ‘আমরা গাজা, লেবানন ও অতিরিক্ত অঞ্চলে প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক এখন আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের বৈঠকগুলো এই যুদ্ধের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

‘সবচেয়ে খারাপ প্রধানমন্ত্রী’
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে। তারা সেখানে থাকা ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে ধ্বংসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গোষ্ঠীটি ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে এক নজিরবিহীন হামলা চালিয়েছিল। তার পর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় উপকূলীয় অঞ্চলটির অনেকাংশ ধ্বংস হয়েছে। এক সামরিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজা উপত্যকাজুড়ে ‘এক ডজনেরও বেশি সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তু, সামরিক অবকাঠামো, সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাসী অবকাঠামোতে’ বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

আট মাসেরও বেশি সময় ধরে গাজা যুদ্ধ চলছে। ইসরায়েলি প্রতিবাদকারীরা সপ্তাহের পর সপ্তাহ রাস্তায় নেমে হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের বাড়িতে ফেরানোর জন্য আরো প্রচেষ্টার দাবি জানাচ্ছে। শনিবার সন্ধ্যায় তেল আবিবে এক সমাবেশে সরকারবিরোধী প্রতিবাদ সংগঠন হোফশি ইসরায়েল দাবি করে, এদিন গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে বড় সমাবেশ হয়েছে। দেড় লাখেরও বেশি মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেছে।

সমাবেশে অনেক বিক্ষোভকারী নেতানিয়াহু ও তার চরম ডানপন্থী মিত্রদের প্রতি ক্রোধ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার এবং দেশের নিরাপত্তা ও জিম্মিদের ঝুঁকির মধ্যে রাখার অভিযোগ করেছেন। জনগণের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেটের সাবেক প্রধান যুবাল ডিসকিন নেতানিয়াহুকে ইসরায়েলের ‘সবচেয়ে খারাপ প্রধানমন্ত্রী’ বলে অভিহিত করেন।

গত ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের আক্রমণের পর গাজা যুদ্ধ শুরু হয়। ইসরায়েলি সরকারের পরিসংখ্যান অনুসারে, সেই আক্রমণে এক হাজার ১৯৪ জন নিহত হয়। পাশাপাশি জিম্মি হওয়া মানুষদের মধ্যে ১১৬ জন এখনো গাজায় রয়ে গেছে। তবে সেনাবাহিনী বলছে, এদের মধ্যে ৪১ জন মারা গেছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রতিশোধমূলক আক্রমণে কমপক্ষে প্রায় সাড়ে ৩৭ হাজার জনের মৃত্যু হয়েছে বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। দুই পক্ষের নিহতদের অধিকাংশই বেসামরিক। এ ছাড়া ইসরায়েলি অবরোধে গাজার ২৪ লাখ মানুষের অধিকাংশ পানি, খাদ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের অভাবে রয়েছে।

এদিকে লেবাননের হিজবুল্লাহ রবিবার একটি সামরিক অবস্থানে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। পূর্ব লেবাননে জামা ইসলামিয়া গোষ্ঠীর একজন কমান্ডারকে হত্যার প্রতিক্রিয়ায় তারা এ হামলা চালায়। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে ইসরায়েল জানিয়েছে। হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধ হলে ইসরায়েলের কোনো অংশ রেহাই পাবে না বলে হুমকি দিয়েছেন।