জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত এবং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাকের ভয়াবহ ছোবল থেকে বাঁচাতে তামাকের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নারী সংসদ সদস্যরা।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে তামাকবিরোধী সংসদীয় নারী ফোরামের সভায় এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

এতে সভাপতিত্ব করেন ফোরামের চেয়ারপারসন ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান।

 

সভায় জানানো হয়, তামাকজাত দ্রব্যে কর ও মূল্যবৃদ্ধি তামাক নিয়ন্ত্রণের অন্যতম কার্যকর ও পরীক্ষিত উপায়। বিশ্বের বহু দেশ এই উপায়ে তামাক নিয়ন্ত্রণে সফলতা অর্জন করেছে। যেহেতু ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট আসন্ন, তাই এই বাজেটে তামাকজাত দ্রব্যে কর ও মূল্যবৃদ্ধির বিষয়েও সভায় জোর দাবি জানানো হয়।

 

সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম একটি বিষয় ছিল জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও তামাক নিয়ন্ত্রণ। তারই প্রতিফলনস্বরূপ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা হয়। তবে আমরা মনে করি, শুধু আইন পাস করাই যথেষ্ট নয়, তামাক নিয়ন্ত্রণ একটি চলমান যুদ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই যুদ্ধে আমাদের জয় হবেই।

 

তামাকবিরোধী মায়েদের ফোরামের আহ্বায়ক শিবানী ভট্টাচার্য বলেন, হার্ম রিডাকশন (Harm Reduction)-এর নামে তামাক কম্পানিগুলো ই-সিগারেট, ভ্যাপ, নিকোটিন পাউচ ইত্যাদি নানা নামে নতুন নতুন নিকোটিন পণ্য বাজারজাত করছে, যা তামাক ব্যবসায়ী চক্রের এক অভিনব ব্যাবসায়িক কৌশল। এই কৌশলের মাধ্যমে তারা কিশোর-তরুণদের বিভ্রান্ত করছে এবং দেশের কিশোর-তরুণদের এক নেশার জগতে ঠেলে দিচ্ছে। সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে এই বিষয়টি প্রতিফলিত না হলেও আমাদের কাজ হবে প্রতিনিয়ত এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। কারণ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে কোনো প্রকার তামাকজাত পণ্যেই ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়।

তামাকবিরোধী শিক্ষক ফোরামের সহ-আহ্বাক তনুশ্রী হালদার বলেন, তামাকের ক্ষতি কেবল ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির ওপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।