টান টান উত্তেজনা শেষে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে টাইব্রেকার শুটে ভারতকে ৪-৩ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মালদ্বীপের রাজধানী মালের ন্যাশনাল ফুটবল স্টেডিয়ামে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়।
ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভারতকে উভয়পাশ থেকে চাপে রাখে বাংলাদেশ। তৈরি হয় একের পর গোলের সুযোগ।
সব বয়সভিত্তিক ক্যাটাগরি মিলিয়ে এবার চতুর্থবারের মতো ফাইনালে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ ও ভারত। এর আগে ২০১৯ সালে অনূর্ধ্ব-১৮, ২০২২ সালে অনূর্ধ্ব-২০ এবং ২০২৫ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ ফাইনালে প্রতিবারই হারের হতাশা সঙ্গী হয়েছিল বাংলাদেশের। তবে এবার সেই আক্ষেপ ঘুচল— প্রথমবারের মতো বয়সভিত্তিক আসরের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
এর আগে একাদশে একটি পরিবর্তন আনেন কোচ মার্ক কক্স।
ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণের ঝলক দেখায় বাংলাদেশ। সপ্তম মিনিটে বাম দিক থেকে রোনানের নেওয়া শটটি ছিল দুর্বল, যা সহজেই সামাল দেন ভারতীয় গোলরক্ষক।
১৩তম মিনিটে রোনানের দারুণ ক্রসে মিঠু চৌধুরীর হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর অল্প সময়ের ব্যবধানে আরেকটি সুযোগ তৈরি হলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি রোনান। প্রথমার্ধের শেষ দিকে কর্নার থেকে পাওয়া সুযোগেও গোলের দেখা মেলেনি। ইনজুরি সময়ে রোনানের সাইড ভলিটিও লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে গোলশূন্য অবস্থাতেই বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে জয়ের খোঁজে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে দুই দলই, কিন্তু শেষ পর্যন্ত রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় কেউই গোল আদায় করতে পারেনি। বাংলাদেশের গোলরক্ষক ইসমাইল হোসেন মাহিন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সামাল দেন ভারতের দূরপাল্লার প্রচেষ্টা।
৬৫তম মিনিটে বদলি হিসেবে নামেন ডেকলান সুলিভান। ম্যাচের শেষ দিকে ভারতের একটি প্রচেষ্টা উপরের জালে আঘাত হানে, আরেকটি সুযোগেও গোল করতে ব্যর্থ হয় তারা। ফলে নির্ধারিত সময়ে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
সেখানে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখান ইসমাইল ও রোনানরা। শেষ পর্যন্ত শ্বাসরুদ্ধকর টাইব্রেকারে জয় নিশ্চিত করে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে বাংলাদেশ।


