মেক্সিকোর গুয়াদালুপ স্টেডিয়ামে শেষ বাঁশি বাজতেই যেন একসঙ্গে দুই বিপরীত আবেগের বিস্ফোরণ। একদিকে উল্লাসে ভাসছে ইরাক, অন্যদিকে কান্নায় ভেঙে পড়েছে বলিভিয়া। তবে এই জয়ের পেছনে শুধু ফুটবল নয়—আছে দীর্ঘ সংগ্রাম, অস্থিরতা আর যুদ্ধের ছায়া পেরিয়ে উঠে দাঁড়ানোর গল্পও।
আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফ ফাইনালে বলিভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ইরাক।
শুরু থেকেই আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচে কার্যত এগিয়ে ছিল ইরাক। ১০ মিনিটে আল-হামাদির হেডে এগিয়ে যায় তারা। প্রথমার্ধের শেষদিকে সমতা ফেরায় বলিভিয়া।
কিন্তু এই জয় কেবল একটি ফুটবল ম্যাচের ফল নয়। বহু বছর ধরে যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে দিয়ে যাওয়া একটি দেশের জন্য এটি প্রতীকী প্রত্যাবর্তনও।
দেশটির ফুটবল কাঠামো দীর্ঘদিন ধরেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল। ঘরের মাঠে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের সীমাবদ্ধতা, খেলোয়াড়দের বিদেশে অনুশীলন ও প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে পথটা সহজ ছিল না। তবু সেই প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে বিশ্বমঞ্চে ফেরার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিল তারা।
অন্যদিকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়েও বিশ্বকাপের টিকিট ছোঁয়া হলো না বলিভিয়ার।
৪৮ তম দল হিসেবে বিশ্বকাপের টিকিট কেটে ইরাক আবারও মনে করিয়ে দিল— ফুটবলে আনন্দ আর বেদনা পাশাপাশি হাঁটে।


