শীতকালীন অলিম্পিকের অন্যতম আয়োজক শহর ইতালির মিলানে প্রতিযোগিতার প্রথম দিনেই সহিংস বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। হাজারো মানুষ শনিবার রাস্তায় নেমে বিভিন্ন ইস্যুতে প্রতিবাদ জানালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। এ ঘটনায় অন্তত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
পুলিশ জানায়, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ফ্লেয়ার জ্বালায় এবং পুলিশের দিকে পাথর নিক্ষেপ করে। যদিও অধিকাংশ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করছিলেন। বিক্ষোভের অন্যতম কারণ ছিল জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং শীতকালীন অলিম্পিক আয়োজনের সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব।
ইতালির উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি মিলানের সংঘর্ষে জড়িতদের ‘অপরাধী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘তুরিনের লজ্জাজনক সহিংসতার কয়েক দিনের মধ্যেই আবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা।
তুরিনে গত সপ্তাহে একটি অনানুষ্ঠানিক সামাজিক কেন্দ্র উচ্ছেদের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও পরে সহিংসতায় রূপ নেয়। সেখানে শতাধিক পুলিশ সদস্য আহত হন এবং ৩০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। এক পুলিশ কর্মকর্তাকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করার ঘটনাকে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ‘হত্যাচেষ্টার শামিল’ বলে মন্তব্য করেন।
এই ঘটনার পর দ্রুতগতিতে একটি নতুন নিরাপত্তা আইন পাস করে সরকার। ওই আইনে বিক্ষোভের আগে সন্দেহভাজনদের ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত আটক রাখার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। মানবাধিকার সংগঠন ও বিরোধী দলগুলো আইনটিকে ‘দমনমূলক’ বলে সমালোচনা করেছে।
মিলানের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ফ্রান্সেস্কা মিসানা এএফপিকে বলেন, ‘অলিম্পিক এখন আর পরিবেশ বা সামাজিক দিক থেকে টেকসই নয়। এর সময় শেষ।
বিক্ষোভের আয়োজক আলবার্তো দি মন্টে জানান, অলিম্পিককে টেকসই ও ব্যয়-নিরপেক্ষ হিসেবে প্রচার করা হলেও বাস্তবে বিভিন্ন স্থানে ভেন্যু ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে পাহাড় রক্ষার বদলে সড়ক নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।
এদিকে শনিবার উত্তর ইতালির রেল নেটওয়ার্কেও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। বোলোনিয়া ও ভেনিসের মধ্যবর্তী রেল অবকাঠামোয় আগুন লাগে। পরে পুলিশ সেখানে কাটা তার এবং একটি বিস্ফোরক ডিভাইস খুঁজে পায়। আদ্রিয়াটিক উপকূলের পেসারোর কাছে একটি রেল ট্র্যাক সুইচে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
পরিবহন মন্ত্রণালয় এসব ঘটনাকে ‘সন্দেহজনক নাশকতা’ বলে উল্লেখ করেছে। সালভিনি বলেন, ‘এই ধরনের ঘটনা ইতালির আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করতে পারবে না। অলিম্পিক গেমস সেই ভাবমূর্তিকে আরো শক্তিশালী করবে।’


