নানা বিতর্কের মধ্যেই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে হাসান জাহাঙ্গীর পরিচালিত সিনেমা ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’। তবে মুক্তির প্রথম দিন থেকেই হতাশাজনক পরিস্থিতির মুখে পড়েছে ছবিটি।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের আগে সিনেমাটির সার্টিফিকেশন সাময়িকভাবে স্থগিত (সাসপেন্ড) করেছিল। পরে সেই সিদ্ধান্ত তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট। এরপর গতকাল শুক্রবার সিনেমাটি মুক্তি পায়।
১৬টি হলের মধ্যে একমাত্র সিনেপ্লেক্স হিসেবে কুমিল্লার কে-স্ক্রিন-এ প্রদর্শিত হচ্ছে ছবিটি। মুক্তির প্রথম দিন সেখানে তিনটি শো চললেও কোনো দর্শক পাওয়া যায়নি। শনিবারও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
হলটির ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘শুক্রবার তিনটা শোর একটি টিকিটও বিক্রি হয়নি।
মূলত ১৬ মে মুক্তির কথা ছিল ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’-এর। কিন্তু মুক্তির আগের দিন, ১৫ মে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড ছবিটির সার্টিফিকেশন সাময়িকভাবে স্থগিত করে।
এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সিনেমাটি দেশের কোনো প্রেক্ষাগৃহ বা অন্য কোনো মাধ্যমে প্রদর্শন করা যাবে না।
সিনেমাটির অভিনেত্রী জেবা জান্নাতের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পরে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন পরিচালক হাসান জাহাঙ্গীর। বৃহস্পতিবার বিচারপতি হাবিবুল গণির নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ সেই স্থগিতাদেশের কার্যকারিতা সাময়িকভাবে স্থগিত করেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী নকিব সাইফুল ইসলাম।
ছবিটি ঘিরে কয়েক সপ্তাহ ধরেই নানা বিতর্ক চলছিল। এর আগে চিত্রনায়িকা মৌসুমী অভিযোগ করেন, এটি সিনেমা নয়, নাটকের কথা বলে যুক্তরাষ্ট্রে শুটিং করা হয়েছিল।
এরপর নতুন বিতর্কের জন্ম দেন অভিনেত্রী জেবা জান্নাত। সিনেমার পোস্টারে মৌসুমীর পাশাপাশি তাঁকেও দেখা গেলেও জেবা দাবি করেন, ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নামে কোনো সিনেমা বা নাটকে তিনি অভিনয়ই করেননি।
বিষয়টি নিয়ে পরিচালক হাসান জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে সন্তোষজনক জবাব না পেয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডসহ বিভিন্ন সংগঠনে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি টেলিভিশন অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন অ্যাক্টরস ইকুইটিতেও অভিযোগ জমা দেন।


