দুবাই: ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবে আরও হামলার হুমকির মধ্যে বৃহস্পতিবার উপসাগরীয় অঞ্চলের শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে। এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক নৌপথে পণ্য পরিবহন নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বেড়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের প্রধান শেয়ারসূচক ০.৬ শতাংশ কমেছে। এর মধ্য দিয়ে সূচকটির টানা ষষ্ঠ সাপ্তাহিক পতনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর শেয়ারের দামও ০.৬ শতাংশ কমেছে।

এর আগে সৌদি আরামকোর ধাহরানে অবস্থিত সদর দপ্তরে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় ভবনটির কয়েকটি তলায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য শেয়ারবাজারেও দরপতন দেখা গেছে। কাতারের প্রধান শেয়ারসূচক ১.২ শতাংশ কমে ছয় বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। দুবাইয়ের শেয়ারসূচক কমেছে ০.৭ শতাংশ এবং আবুধাবির সূচক কমেছে ০.৪ শতাংশ। আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার মূল্য ব্যারেলপ্রতি ২.২৮ ডলার বা ২.২ শতাংশ কমে ১০৩.৭৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে, হরমুজ প্রণালির কাছে ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য ধরনের প্রক্ষেপণের আঘাতে দুটি জাহাজ ডুবে যাওয়ার খবরের পর সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশ্ববাজারে তেল পরিবহনের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহকে প্রভাবিত করতে পারে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করেছে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত এবং জ্বালানি সরবরাহ বা নৌপরিবহনে বিঘ্ন দেখা দিলে মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।

সাম্প্রতিক দরপতন থেকে বোঝা যাচ্ছে, আঞ্চলিক সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে জ্বালানি রপ্তানি ও আঞ্চলিক বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলো এসব ঝুঁকির মুখে রয়েছে। জ্বালানি স্থাপনা কিংবা বাণিজ্যিক জাহাজে আরও হামলা হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।