রতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নামে পরিচালিত পেজে এই শুভেচ্ছাবার্তা প্রকাশ করা হয়।

 

শুভেচ্ছাবার্তায় তারেক রহমান লিখেছেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের আন্তরিক শুভেচ্ছা। আপনার জন্মদিনে অনেক আনন্দ ও শুভ কামনা জানাই। ভারতের জনগণের জন্য আপনার নিবেদিত সেবার সঙ্গে সব সময় সুস্বাস্থ্য ও উদ্যম থাকুক।’

বার্তার সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির একটি জন্মদিনের শুভেচ্ছা কার্ডও প্রকাশ করা হয়।

 

কার্ডে লেখা ছিল, ‘শুভ জন্মদিন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি’।

নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন ১৭ সেপ্টেম্বর। গতকাল তাঁর ৭৬তম জন্মদিন পালিত হয়েছে।

এদিকে নরেন্দ্র মোদি জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর জন্য এক্স হ্যান্ডলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লেখেন—‘আপনার উষ্ণ শুভেচ্ছার জন্য ধন্যবাদ।

 

আমি গভীর হৃদয় থেকে আপনার অভিনন্দন গ্রহণ  করলাম।’

গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পরপরই তারেক রহমানকে অভিনন্দন ও ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান নরেন্দ্র মোদি। গত সপ্তাহে ভারতে ব্রিকস সম্মেলনেও তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মোদি। তবে তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেননি।

লেকের দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের নির্দেশ : এদিকে রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন ও ধানমণ্ডি লেকের দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

লেকে পয়োবর্জ্য প্রবেশ বন্ধ, নিয়মিত বর্জ্য ও স্লাজ অপসারণ, ভবনভিত্তিক স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (এসটিপি) স্থাপন এবং স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্কের জরিপ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ এ তথ্য জানান।

বৈঠকে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকার লেকগুলোর বর্তমান অবস্থা, দূষণের উৎস এবং সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ধানমণ্ডি লেকের সংস্কার, স্লাজ অপসারণ ও পাইলট প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

গুলশান-বনানী এলাকায় শর্ত সাপেক্ষে স্যুয়ারেজ বিল আদায় এবং পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নে ক্যাচমেন্ট এরিয়া তৈরির বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়। ভাসমান বর্জ্য অপসারণে ব্যবহৃত যান্ত্রিক নৌকার সংখ্যা দুটি থেকে বাড়িয়ে ১০টি করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। ভাসমান এক্সকাভেটর দিয়ে লেকের তলদেশের স্লাজ অপসারণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী, প্রযোজ্য ভবনগুলোতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসটিপি স্থাপন নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পয়োনিষ্কাশন লাইন বৃষ্টির পানির ড্রেন বা লেকের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা শনাক্ত করে অবৈধ সংযোগ বন্ধে ঢাকা ওয়াসা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার সুপারিশ করা হয়।

রাজউকের অধীন লেকগুলোর সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণে ৪২ জন জনবলের সমন্বয়ে পাঁচটি বিশেষ টিম এরই মধ্যে নিয়োজিত করা হয়েছে।

বৈঠকে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আন্তর্জাতিক পুরস্কার বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা : সৌদি আরবে গত আগস্টে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিজয়ী হাফেজদের গতকাল বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উদ্যোগে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব হাসান শিপলু এই তথ্য জানিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মেধাবীদের উৎসাহ ও সঠিক মূল্যায়ন করা হলে এর সুফল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে। দেশের সন্তানরা মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে ভালো কিছু অর্জন করলে সরকার সেই অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে। বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের অর্জন শুধু তাঁদের নিজেদের নয়, বাংলাদেশের সব মুসলমানের অর্জন।

সৌদি আরবের প্রতিযোগিতায় ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীদের মধ্যে বাংলাদেশের হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া প্রথম স্থান অর্জন করেন। হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী তৃতীয় হন। হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান এবং হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।