চলমান ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ নাস্তানাবুদ করে ফেলেছে বিশ্ব অর্থনীতিকে। বাংলাদেশেও এর চরম প্রভাব পড়েছে। তবে এ প্রভাব সামনের দিনগুলোতে আরও তীব্র হবে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এজন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
সম্প্রতি ঢাকা সফরে এসে আইএমএফের এশীয় অঞ্চলের প্রধান কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকের সময় এ সুপারিশ করেছেন বলে জানিয়েছে অর্থবিভাগের একটি সূত্র।
এদিকে বৈশ্বিক এই সংকট সামাল দিতে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ থাকা প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বিদ্যুৎ-জ্বালানিসহ ভর্তুকি খাতে স্থানান্তর করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, পরিস্থিতি সামাল দিতে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের ব্যাংকঋণ অর্ধলাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। গত জুলাই-ডিসেম্বর শেষে সরকারের ব্যাংকঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকার ব্যাংকঋণের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে তার অর্ধেকের বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার।
এজন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ব্যাপারে ধীরে চল নীতি বেছে নিয়েছে সরকার। এ নিয়ে জাতীয় সংসদের অধিবেশনেও সামান্য আলোচনা হয়েছে। অবশ্য সে প্রস্তাব পর্যালোচনা করারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সিপিডির পক্ষ থেকে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য এজন্য আলাদা একটি কমিশন গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, আগের সরকারের প্রস্তাবিত পে-কমিশনের প্রতিবেদনকে সরাসরি গ্রহণ না করে তা একটি উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। বিগত অন্তর্বর্তী সরকার তাদের মেয়াদেও শেষ সময়ে পে-স্কেল সংক্রান্ত যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব বর্তমান সরকারের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে এক ধরনের ‘প্রলম্বিত দায়’ তৈরি হয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে অন্যায্য। এজন্য এ সরকারের নিজের মতো একটি কমিশন গঠন করে এটাকে বিবেচনা করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। এদিকে অর্থবিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেহেতু বলেছেন, তাই সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন এই বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হতে পারে। তবে এখনই সব বাস্তবায়ন সম্ভব নয়, এজন্য কিছুটা সময় নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। অন্যদিকে ঈদের আগে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী পে-কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানকে ডেকে বৈঠক করেন। সেখানে পে-স্কেলের বাস্তবায়নের বিষয়ে চেয়ারম্যানের মতামত নেন। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান সম্পর্কেও তাঁকে জানান অর্থমন্ত্রী।
জানা গেছে, রাজনৈতিক, আর্থিক ও সামাজিক সংকটকে আমলে নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর জন্য একটি কমিশন গঠন করে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু আর্থিক সংকট বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনের আগে নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার সম্ভাবনা ঘোষণা করলেও তা বাস্তবায়ন করে যেতে পারেনি ড. ইউনূস সরকার। তবে পে-কমিশন যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সেই অনুযায়ী একটি বেতন কাঠামোর সুপারিশ মালা বর্তমান সরকারের সঙ্গে রয়েছে। যেটি করার ঘোষণা দিলেও এখনো শুরু করা হয়নি। তবে বাজেট প্রণয়নের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলে সেটি রিভিউ করা হতে পারে।


